KMC and Suvendu Adhikari

মমতার ভ্রাতৃবধূ থেকে স্বরূপের স্ত্রী, শুভেন্দুকে ঘিরে হুড়োহুড়ি ছোট লালবাড়িতে! ববি, মালাকে মঞ্চে ডেকে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রবেশদ্বারের সামনে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, মালা রায়, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, জুঁই বিশ্বাস, দেবাশিস কুমার, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়েরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১৭:৩৯
Share:

স্বচ্ছতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। সোমবার কলকাতা পুরসভায়। ছবি: সংগৃহীত।

কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে নাটকীয় চিত্র। তাঁকে ঘিরে তৃণমূল কাউন্সিলর ও দলের একাধিক নেতার বিশেষ তৎপরতা ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রবেশদ্বারের সামনে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন মালা রায়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী তথা কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, জুঁই বিশ্বাস, দেবাশিস কুমার, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়েরা।

Advertisement

পুরসভায় প্রবেশ করার সময় শুভেন্দুকে দেখে প্রথমেই এগিয়ে আসেন মমতার ভাইয়ের স্ত্রী কাজরী। হাসিমুখে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায় তাঁকে। একই সময়ে উপস্থিত জুঁই বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীকে প্রণাম করেন। অন্য দিকে, দীর্ঘ সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন দেবাশিস কুমার। পরে তিনি ইশারায় মুখ্যমন্ত্রীকে ফোনে যোগাযোগ করার কথাও জানান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। এর পর অনুষ্ঠানের মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় পথের একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে তিনি হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানান। তবে শুভেন্দু কোনও প্রতিক্রিয়া না দিয়ে সোজা মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান।

মঞ্চের কাছেই উপস্থিত ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁকে দেখে শুভেন্দু সরাসরি মঞ্চে আসার আমন্ত্রণ জানান। একই ভাবে প্রাক্তন চেয়ারপার্সন মালা রায়কেও মঞ্চে বসার অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিম, মালা রায়, সন্দীপন সাহা-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকে বসতে দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই দৃশ্য সাম্প্রতিক সময়ের রাজ্য রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে। কারণ, অতীতে তৃণমূল সরকারের আমলে বহু সরকারি অনুষ্ঠানে বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি খুব একটা দেখা যেত না। সেই প্রেক্ষাপটে সোমবারের অনুষ্ঠান ছিল ব্যতিক্রমী। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও সরকারি মঞ্চে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় প্রশাসনিক সৌজন্য ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement