ভর দুপুরে কলকাতার রাস্তায় ক্ষুর মেরে, গুলি করে দুষ্কৃতী উধাও

খাস কলকাতায় ফের দিনেদুপুরে গুলি। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার দুপুরে নারকেলডাঙায় প্রোমোটিংকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোলের জেরে চলা গুলি ও ক্ষুরের আঘাতে গুরুতর আহত হন এক ব্যক্তি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ ১৯:৪৭
Share:

খাস কলকাতায় ফের দিনেদুপুরে গুলি। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার দুপুরে নারকেলডাঙায় প্রোমোটিংকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোলের জেরে চলা গুলি ও ক্ষুরের আঘাতে গুরুতর আহত হন এক ব্যক্তি। মহমম্দ কামারউদ্দিন নামে ওই ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রের খবর, ৮৬/১৯ নারকেল ডাঙা নর্থ রোডের ঠিকানায় দীর্ঘদিন ধরে প্রোমোটিং চলছে। তিন বছর আগে বুকিং সত্ত্বেও ফ্ল্যাটের চাবি এখনও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। যাঁরা ফ্ল্যাটের জন্য অগ্রিম দিয়েছিলেন, তাঁদের কয়েক জনের বক্তব্য, প্রোমোটারের কাছে বার বার দরবার করেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। রবিবার দুপুরে তা নিয়েই সালিশি সভা বসেছিল। ছিলেন প্রোমোটার মহম্মদ জালাল, স্থানীয় কংগ্রেসকর্মী মহম্মদ কামারউদ্দিন এবং সেই সব লোকজন, যাঁরা ফ্ল্যাটের জন্য অগ্রিম দিয়েছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘‘বুকিং সত্ত্বেও যাঁরা ফ্ল্যাট পাচ্ছিলেন না তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মহম্মদ কামারউদ্দিন। প্রতিবাদ করাতেই তিনি আক্রান্ত হলেন।’’ পুলিশ জানিয়েছে, নারকেলডাঙা এলাকার দাগী দুষ্কৃতী টাকলা আলম গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত। তিনিই বিক্রি হওয়া ফ্ল্যাট তৃতীয় ব্যক্তিকে বিক্রি করতে চাইছিলেন। এই নিয়েই সভা চলাকালীন টাকলা আলমের সঙ্গে মহম্মদ কামারউদ্দিনের বচসা বাঁধে। বচসা হাতাহাতিতে গড়ায়।

Advertisement

প্রত্যক্ষদর্শী এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘বচসার পরেই টাকলা আলমের ছেলে সাদ্দাম মহম্মদ কামারউদ্দিনের বাঁ পা লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি চালায়। কামারউদ্দিনের মাথায় ক্ষুর চালিয়ে পালিয়ে যায় টাকলা আলমের শাগরেদ আরশাদ।’’

মহম্মদ কামারউদ্দিনের অভিযোগ, ‘‘তিন বছর আগে বুকিংয়ের পরেও ফ্ল্যাট হাতে পাচ্ছিলেন না সাধারণ মানুষ। আমি তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই টাকলা আলম দুষ্কৃতী দিয়ে আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আসলে টাকলা আলম অন্য জনকে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে চায়।’’

এ দিন ঘটনার পর ওই তল্লাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, দিনেদুপুরে যে ভাবে জনসমক্ষে গুলি চলল, তাতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, এতে যে কারও প্রাণহানি হতে পারত। স্থানীয় কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রকাশ উপাধ্যায় বলেন, ‘‘কামারউদ্দিন আমার দলের কর্মী। বেআইনি ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাঁকে আক্রমণ করেছে এলাকার দাগী দুষ্কৃতীরা।’’ রাত পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement