Bankim Chandra Chattopadhyay

বঙ্কিমের জন্মদিনে নেহরুর নিন্দায় রাজ্যপাল

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মনে হচ্ছে রাজ্যপাল কারও নির্দেশে এ সব বলছেন। এটা ঠিক নয়। সংবিধান এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কথা আর একটু ভেবে বললে ভাল হত। দেশবা জাতি নিয়ে ওঁর ধারণা দেখছি জাতীয়, আন্তর্জাতিক মাপকাঠির সঙ্গে মেলে না।”

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০৭:৪১
Share:

রবীন্দ্রনারায়ণ রবি। — ফাইল চিত্র।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ‘ভুলের মতাদর্শ’ নিয়ে সরব হলেন রাজ্যপাল রবীন্দ্রনারায়ণ রবি।

শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন সভাঘরে দীর্ঘ বক্তৃতায় রাজ্যপাল তথা যাদবপুরের আচার্যের বক্তব্য, ‘‘বঙ্কিমচন্দ্র দেশজাগানিয়া ঋষি। বন্দে মাতরম বেদমন্ত্রের সমান। কিন্তু ভারতীয়দের কাছে স্বদেশ-চেতনায় মিশে থাকা দেশ মায়ের সত্তা যুগে যুগে আক্রান্ত হয়েছে। স্বাধীন দেশেও এর অন্যথা হয়নি।’’ এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই নেহরুর সমালোচনায় মুখর রবি বলেন, ‘‘দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমী ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ধর্মের ছোঁয়াচমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন। তিনি সোমনাথ মন্দির সংস্কার অনুষ্ঠান থেকে সরে থেকেছেন। আবার দেশভাগের পরে থেকে যাওয়া মুসলিমদের তোষণ করেছেন।’’

নেহরুর আমলে দেশের বিভিন্ন রাজ্য বা জেলা গঠন পর্যন্ত দেশের ঐক্যকে ভঙ্গুর করেছে বলে এ দিন রবি সরব হন। রবি বলেন, ‘‘প্রথম প্রধানমন্ত্রীর চোখে তখনকার ৩০ কোটি মানুষের ভারত ছিল বালির স্তূপের মতো। মুঠো মুঠো বালির মতো ভাষা, সংস্কৃতির ভেদে রাজ্য ভাগ করেছেন। বৈচিত্র্য বিভেদের কারণ হয়েছে। সংস্কৃতিভেদে (এথনিসিটি) উত্তর-পূর্বে কোনও কোনও রাজ্য হয়েছে। কোথাও মুসলিম বেশি থাকলে আলাদা জেলা হয়েছে।’’ পশ্চিমবঙ্গেও উর্দু একটি রাজ্য ভাষা হওয়া প্রকৃতিবিরুদ্ধ বলেরাজ্যপালের দাবি।

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মনে হচ্ছে রাজ্যপাল কারও নির্দেশে এ সব বলছেন। এটা ঠিক নয়। সংবিধান এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কথা আর একটু ভেবে বললে ভাল হত। দেশবা জাতি নিয়ে ওঁর ধারণা দেখছি জাতীয়, আন্তর্জাতিক মাপকাঠির সঙ্গে মেলে না।”

তবে ২০১৪-র পরে নরেন্দ্র মোদীর ভারত এক অন্য ভারত বলে রবির দাবি, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের প্রতিটি জেলায় থেকেছেন। তাঁর মতো অন্তরঙ্গ ভাবে ভারতকে কেউ বোঝেননি।’’ নতুন মেধাস্বত্ত্ব নির্মাণ থেকে পড়শি দেশের আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব— সব কিছুতেই আজকের ভারত অনেক এগিয়ে দাবি করে রবি বলেন, ‘‘অবশেষে দেশের এই নতুন পথের শরিক হয়েছে বাংলা। মার্কসবাদের পথ ধরে বাংলা বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, রামকৃষ্ণ, অরবিন্দ, সুভাষচন্দ্র বা শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ থেকে সরে এসেছিল।’’

এ দিন বঙ্কিম গবেষক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য, বিজেপি নেতা তথাগত রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। মহরমের ছুটি থাকায় ছাত্রছাত্রীরাবেশি ছিলেন না অনুষ্ঠানে। তবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রধান থেকে প্রাক্তন উপাচার্যেরা । নতুন প্রজন্মকে দেশ এবং বাংলাকে মহান করার সঙ্কল্প নিতে বলে রবি বক্তৃতা শেষ করেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন