পুরসভার দেওয়া আবর্জনা ফেলার বালতি মজুত করে রাখার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত।
শ্রীরামপুরের পর এ বার কলকাতা। পুরসভার থেকে সাধারণ মানুষদের জন্য দেওয়া আবর্জনা ফেলার বালতি মজুত করে রাখার অভিযোগ উঠল কলকাতার ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৃষ্ণা সিংহের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত চার বছর ধরে স্থানীয় এক কারখানার খোলা জায়গায় ওই বালতি মজুত করছিলেন কৃষ্ণার অনুগামীরা। সেখান থেকে কিছু বিলি করা হলেও এখনও ওই কারখানায় দেড় থেকে দু’লক্ষ বালতি রাখা আছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও বালতি মজুত করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষ্ণা।
রবিবার বেহালা এলাকায় পুরসভার বালতি মজুত করে রাখার বিষয় প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল শুরু হয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের প্রকল্প ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ লেখা স্টিকার লাগানো সব ক’টি বালতির গায়ে। বর্জ্য ফেলার জন্য সাধারণ মানুষকে ওই বালতিগুলো দেওয়ার কথা। স্থানীয়দের দাবি, পুরসভার তরফে এলাকাবাসীর জন্য ওই বালতি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সব বালতি বিলি করেননি স্থানীয় কাউন্সিলর। তবে কেন ওই বালতি মজুত করে রাখা হয়েছিল, তার কোনও উত্তর মেলেনি।
সাধারণত নীল এবং সবুজ— দুই রঙের আবর্জনা ফেলার বালতি বিলি শুরু করেছিল পুরসভা। কঠিন এবং ভেজা বর্জ্যের জন্য পৃথক বালতি। তেমনই ‘লাখ লাখ’ বালতি কারখানায় মজুত রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারখানার মালিকের দাবি, গত চার বছর ধরে সেখানে বালতি মজুত করছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলরের অনুগামীরা। তবে কিছু বালতি ইতিমধ্যেই তাঁর কারখানা থেকে সরানো হয়েছে। আরও কিছু রয়ে গিয়েছে। সেগুলি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বার বার স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে দরবার করেও লাভ হয়নি বলে দাবি ওই কারখানার মালিকের।
বেহালার ওই এলাকায় ‘সিংহ’ পরিবারের দাপট রয়েছে। কৃষ্ণা নিজে ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাঁর ভাই অমিত সিংহ। আর তাঁদের বাবা তারক সিংহ ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এ ছাড়াও তিনি কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদের (নিকাশি) পদেও ছিলেন। যদিও দিন দুয়েক আগে সেই পদ থেকে ইস্তফা দেন তারক। দল এবং কলকাতার সদ্যপ্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে পদ ছাড়েন তিনি। তবে সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। তার মধ্যেই মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ। সেই সব মিলিয়ে কলকাতা পুরসভায় টালমাটাল অবস্থা চলছেই। নানা অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলরও। সেই আবহে এ বার তারকের কন্যার বিরুদ্ধে পুরসভার আবর্জনা ফেলার বালতি মজুত করে রাখার অভিযোগ উঠল।
এ প্রসঙ্গে কৃষ্ণার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘‘যে বালতিগুলি ওখানে রাখা ছিল, তা বরো ১৩-র সাতটি ওয়ার্ডের। পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক এই বাতিলগুলি সেখানে রেখে গিয়েছেন। সোমবার ওই আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সেখানেই বালতিগুলি সরিয়ে নেওয়ার কথা বলব।’’ তার পরেই কৃষ্ণা যোগ করেন, ‘‘এটা জানা উচিত, পুরসভার কোনও জিনিস বণ্টনের দায়িত্ব কাউন্সিলরের হাতে থাকে না। পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্বে থাকে কোথায় কী যাবে। তাই এটা বলা ঠিক নয় যে, আমি ওখানে বালতি রেখে এসেছি।’’
শনিবার শ্রীরামপুরে বালতি চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন তৃণমূলের দুই নেতা। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, শ্রীরামপুরের নবগ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে একশোর বেশি প্লাস্টিকের বালতি পড়ে থাকতে দেখা যায়। অভিযোগ, সেগুলো এত দিন পর্যন্ত তৃণমূল নেতারা নিজেদের বাড়িতে রেখে দিয়েছিলেন। এখন বিপদ বুঝে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ফেলে পালিয়ে গিয়েছেন। ঘটনায় ধৃত তৃণমূল নেতার নাম মোহন মণ্ডল এবং বিষ্ণু মণ্ডল।