TMC Councillor Sushanto Ghosh

ফুটপাথে দোকানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন! তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত এবং ৪ সঙ্গীর নামে এফআইআর

প্রসঙ্গত, ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে হকারদের টাকা দেওয়ার নামে তিন কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগে আনন্দপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন হকার্স কমিটির কয়েক জন। সেই অভিযোগ জমা পড়তেই গা-ঢাকা দেন সুশান্ত।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৬:৩২
Share:

অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। ফাইল চিত্র।

ফুটপাথে দোকান বসিয়ে দেওয়ার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাত লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং তাঁর চার সহযোগীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হল আনন্দপুর থানায়। কসবার এক ব্যক্তি শুক্রবার এই অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের নভেম্বর। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সেই সময় আনন্দপুর এলাকায় ফুটপাথের উপরে সাত ফুটের একটি দোকান বসিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সুশান্ত এবং তাঁর চার সঙ্গী। পুরসভার নামে ‘ভুয়ো’ লাইসেন্সও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তার বিনিময়ে সাত লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। এফআইআরে আরও দাবি করা হয়েছে, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্ত কাউন্সিলর এবং তাঁর সঙ্গীরা প্রতিশ্রুতি রাখেননি। বরং অভিযোগকারীকে তার তুলনায় ছোট একটি চার ফুটের দোকানের ব্যবস্থা করে দেন। এক প্রকার জোর করেই সেই দোকান নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, যেখানে ওই ব্যক্তিকে দোকানের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন সুশান্তেরা, সেই জায়গাটি রুবি বাজার কমিটির অ্যাম্বুল্যান্স রাখার ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হত। শুধু তা-ই নয়, ওই ঘরের কোনও সরকারি লাইসেন্সও ছিল না। এই অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে আনন্দপুর থানা। তবে সুশান্তের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ প্রথম নয়। গত ২৯ মে ইএম বাইপাস-রুবি ক্রসিংয়ের কাছে হকার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফেও সুশান্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই এলাকায় ফুটপাথে দোকানঘর দেওয়ার নামে সুশান্ত ৩-৪ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করেছেন বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, হকারদের কাছ থেকে এ ভাবেই তিন কোটি টাকা তুলেছিলেন সুশান্ত।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে হকারদের টাকা দেওয়ার নামে তিন কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগে আনন্দপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন হকার্স কমিটির কয়েক জন। সেই অভিযোগ জমা পড়তেই গা-ঢাকা দেন সুশান্ত। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। ওড়িশা পর্যন্ত তাঁকে ধাওয়া করা হয়। পুলিশকে আসতে দেখে পড়শি রাজ্যের রাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে গা-ঢাকা দেন সুশান্ত। তাঁর গাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় চালক সুজিত চৌধুরীকে।

জানা গিয়েছে, পুলিশি তদন্তে ইতিমধ্যেই কাউন্সিলরের নামে একাধিক সম্পত্তি পাওয়া গিয়েছে। এ ছাড়া, বেনামেও বহু সম্পত্তি রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, তাঁর সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তির মূল্য কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছোতে পারে। এই বিপুল সম্পত্তির সঙ্গে তোলাবাজি-সহ অন্য অভিযোগের যোগসূত্র নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে সন্দেহ জোরালো হচ্ছে। গত মাসে ১২ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরে দাঁড়ান তিনি। তবে কাউন্সিলর হিসাবে ইস্তফা দেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement