Spitting

থুতু ফেলার বিপদ নিয়ে অসচেতন শহর, আইনি ব্যবস্থাই কি সমাধান

যত্রতত্র থুতু, পান-গুটখার পিক ফেলার বিরুদ্ধে আইনি দাওয়াই অবশ্য রয়েছে। করোনাকালে মহামারি আইনে রাস্তায় থুতু ফেলার অভিযোগে বহু মানুষকে গ্রেফতার বা জরিমানা করত পুলিশ।

মিলন হালদার

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৮
Share:

গাড়ি থেকে রাস্তায় পিক ফেলছেন এক ব্যক্তি। ধর্মতলায়। ছবি: রণজিৎ নন্দী।

শহর জুড়ে অবিরাম থুতু-বৃষ্টি!

অটো তখন রাসবিহারী মোড়ে। এক যুবক যাত্রী অটো থেকে রাস্তায় থুুতু ফেললেন। কেন এটা করলেন? প্রশ্ন শুনে হতচকিত যুবকের জবাব, ‘‘ভুল হয়ে গিয়েছে!’’

শুধু ওই যুবক নন, এমন ‘ভুল’ যে পথচলতি মানুষের অনেকেই করে চলেছেন, তা কলকাতার রাস্তায় চোখে পড়ে প্রায়ই। থুতু বা পানের পিকে রঙ বদলে যাচ্ছে রাস্তার, থুতু উড়ে আসছে বাস, গাড়ির জানলা থেকে। থুতু ফেলার উৎপাত থেকে রেহাই পায় না হাসপাতাল চত্বরও! শহরবাসীর একাংশের যত্রতত্র থুতু বিসর্জনের এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস নতুন কিছু নয়। তবে রাজ্যে নিপা ভাইরাস হানা দেওয়ায় এ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। করোনার মতো ভয়াবহ অতিমারি পেরিয়ে এসেও কলকাতাবাসীর একাংশ যে সচেতন হননি, তা স্পষ্ট। থুতু ফেলার বিপদ নিয়ে প্রচারও হয় শহরে, তবু রাশ টানা যাচ্ছে না এই আচরণে। বি বা দী বাগে রাস্তায় গুটখার পিক ফেলার পরে প্রশ্নের মুখে পড়ে পথচারী তাই উদ্ধত উত্তর দেন, ‘‘পিক তো রাস্তায় ফেলেছি। তাতে কী হয়েছে?’’

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রাস্তায় থুতু ফেললে অনেক কিছুই হতে পারে। বক্ষরোগ চিকিৎসক সুস্মিতা রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘থুতুর মধ্যে ড্রপলেট থাকে। ফুসফুসের যে কোনও সংক্রমণ ড্রপলেট থেকেই ছড়ায়। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা থুতু ড্রপলেট সংক্রমণের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। এই ড্রপলেটের মাধ্যমে যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ ছড়ায়। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ থুতু ফেললে সেই ড্রপলেটের সংস্পর্শে এসে অন্য কেউ সংক্রমিত হতে পারেন। তাই রাস্তায় থুতু, পান বা গুটখার পিক ফেলা খুবই অস্বাস্থ্যকর। পায়ে পায়ে সেই থুতু অন্য জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়ে।’’ সুস্মিতা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, করোনা অতিমারি ছড়িয়ে পড়েছিল ড্রপলেটের মাধ্যমেই।

যত্রতত্র থুতু, পান-গুটখার পিক ফেলার বিরুদ্ধে আইনি দাওয়াই অবশ্য রয়েছে। করোনাকালে মহামারি আইনে রাস্তায় থুতু ফেলার অভিযোগে বহু মানুষকে গ্রেফতার বা জরিমানা করত পুলিশ। আইনজীবী শেখ সেলিম রহমান বলছেন, ‘‘মহামারি আইন ছাড়াও সাধারণ সময়ে রাস্তাঘাটে থুতু ফেলা আটকাতে ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রহিবিশন অব স্মোকিং অ্যান্ড স্পিটিং অ্যান্ড প্রোটেকশন অব হেলথ অব নন-স্মোকারস অ্যান্ড মাইনরস অ্যাক্ট, ২০০১ রয়েছে। এই আইনে থুতু যিনি ফেলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর করে ব্যবস্থা নিতে পারে। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে কলকাতা পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে।’’

তবে করোনার সময়ে যত্রতত্র থুতু-পিক ফেলা আটকাতে কলকাতা পুলিশকে যতটা তৎপর হতে দেখা গিয়েছিল, করোনা বিদায় নেওয়ার পরে সেই তৎপরতা আর চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ। আইন তাই রয়ে গিয়েছে খাতায়-কলমেই।

তাই কসবায় যাত্রীর আপত্তি উপেক্ষা করে চলন্ত অটো থেকে বার বার রাস্তায় থুতু ফেলেন চালক। চাঁদনি চক এলাকায় ফুটপাতে রাখা স্কুটিতে বসে থাকা প্রৌঢ় রাস্তায় থুতু ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি যে অস্বাস্থ্যকর, তা জানানোর পরে প্রৌঢ় ক্ষুব্ধ চোখে তাকান। তার পরে হাতের এমন ইশারা করেন, যার অর্থ, ‘যান এখান থেকে’। বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে এক ব্যক্তি একটি দোকান থেকে বেরিয়ে পানের পিক ফেলার পরে বললেন, ‘‘রাস্তার ধারে ফেলেছি। কোনও অসুবিধা নেই।’’ ফলে নিপা ভাইরাসের হামলার মুখে দাঁড়িয়ে অসচেতন শহরবাসীর যত্রতত্র থুতু ফেলার এই ব্যাধি থামানো যাবে কী ভাবে, সেই প্রশ্ন উঠছে।

লালবাজার অবশ্য এই বিষয়ে মানুষের সচেতনতার উপরেই আস্থা রাখতে চাইছে। এক পুলিশকর্তার কথায়, ‘‘ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে আমাদের কাজ করতে হয়। গুরুতর সমস্যার সমাধান পুলিশকে আগে করতে হয়। তাই সব সময়ে থুতু ফেলা, হেলমেট ছাড়া বাইক চড়ার মতো বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন