পেট্রল পাম্পে অটোর লম্বা লাইন। বুধবার, ফুলবাগান এলাকায়। —নিজস্ব চিত্র।
অটোয় ব্যবহৃত এলপিজি জোগানের অভাব নেই শহরের পেট্রল পাম্পগুলিতে। এমনই দাবি করছেন একাধিক তেল সংস্থার আধিকারিক এবং রাজ্যের পেট্রল পাম্প সংগঠনের নেতৃত্ব। তার পরেও বুধবার দিনভর গড়িয়া, মহামায়াতলা, বাইপাস এলাকার বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে অটোয় এলপিজি গ্যাস ভরার দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। প্রায় সব জায়গাতেই মাঝরাত থেকে অটোয় গ্যাস ভরতে চালকদের লাইন দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, এ দিন থেকেই অটোয় ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাসের দাম কেজি প্রতি পাঁচ টাকা করে বেড়েছে। আগে কেজি প্রতি এলপিজির দাম ছিল ৫৭.৬৭ টাকা। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৬২.৬৮ টাকায়।
এর ফলে গড়িয়াহাট, রুবি, বাঘা যতীন স্টেশন, পার্ক সার্কাস, টালিগঞ্জ, বেহালা চৌরাস্তা, ঠাকুরপুকুর, সোনারপুর, কুঁদঘাট-সহ সব রুটে কম সংখ্যায় অটো রাস্তায় নামছে বলে খবর। বহু ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যাওয়ায় একাধিক রুটে ভাড়া বাড়ানোর দাবিও উঠছে। রাত ১১টার পরে একাধিক রুটে যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
শহরে বেলতলা পিভিডি-র অধীনে প্রায় ১৫ হাজার অটো রয়েছে বলে খবর। এ ছাড়াও কলকাতা লাগোয়া শহরতলিতে বিপুল সংখ্যায় অটো চলে। তার মধ্যে বজবজ, আনন্দপুর, বারুইপুর, রেনিয়া-সহ বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। ওই সব রুটে বহু জায়গায় বাড়িতে ব্যবহারের এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে বেআইনি উপায়ে বার করা কাটা গ্যাস দিয়েই অটো চলে বলে সূত্রের খবর।
তবে যুদ্ধের আবহে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার গ্রাহকদের দেওয়া নিয়ে সম্প্রতি কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের কেওয়াইসি এবং ডেলিভারির জন্য নির্দিষ্ট কোড ছাড়া গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে কাটা গ্যাসের জোগানেও টান পড়েছে। ফলে এর দাম কেজি প্রতি ৭৮ টাকা থেকে এক লাফে বেড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। রান্নার গ্যাসের দহন ক্ষমতা বেশি হওয়ায় ওই গ্যাস থেকে প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি মাইলেজ পাওয়া যায় বলে খবর। তাই কলকাতা লাগোয়া এলাকাগুলিতে কাটা গ্যাস ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। সরকারি নজরদারি এড়িয়ে বছরভর রুবি সংলগ্ন খুদিরাবাদ, খেয়াদহ, বোড়াল-সহ নানা জায়গায় বেআইনি ভাবে ওই গ্যাসের কারবার চলে। অভিযোগ, কাটা গ্যাস না পেয়ে চালকদের একাংশ এ বার পাম্পের গ্যাসের দিকে ঝুঁকেছেন। অটোর এলপিজি-র চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সেই সঙ্গে গ্যাস না পাওয়ার আশঙ্কায় অটোচালকদের একাংশ বেশি গ্যাস কিনছেন। ফলে পাম্পে দীর্ঘ লাইন পড়ছে।
সাধারণত অটোয় ব্যবহারের এলপিজি-তে প্রোপেনের মাত্রা কম থাকে এবং তা তুলনামূলক বিচারে বেশি শুদ্ধ।
অন্য দিকে, বাড়িতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসে বিউটেনের মাত্রা বেশি থাকে। তাতে ইঞ্জিনে শুষ্ক দহনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। গাড়ির এয়ার ভেপরাইজারে ময়লা জমে বেশি। কিন্তু, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লাভের তাগিদে অটোচালকদের একাংশ ওই গ্যাস ব্যবহার করেন। আচমকা রান্নার গ্যাসের সরবরাহে টান পড়ার কারণেই পাম্পে অটোর লাইন দীর্ঘ হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন অটোচালকদের একাংশ।
পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের আবহে পেট্রল পাম্পগুলিতে তেল এবং অন্য জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রিম টাকা জমা দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কল্যাণ মান্না। তাতে ছোট পাম্পগুলির ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধা হয়েছে। কিন্তু পেট্রল, ডিজ়েলের সরবরাহে এখনই কোনও টান পড়েনি বলে জানাচ্ছেন তিনি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে