ঝড়ের দাপটে গাছ উপড়ে বন্ধ রাস্তা। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য।
সাতসকালে ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ায় ব্যাহত হল যান চলাচল। ফলে সপ্তাহের ব্যস্ত সময়ে সকালেই অসুবিধায় পড়তে হয় অফিসযাত্রীদের। বুধবার সকালে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের কাছে একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে। এই ঘটনার জেরে প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক এই রাস্তার একাংশ বন্ধ থাকে। গাছের চাপে একটি লাইটপোস্ট এবং রাস্তার ধারের রেলিংও ভেঙে যায়। তবে এই সময়ে ঘটনাস্থলে কেউ না থাকায় বড় কোনও বিপদ হয়নি। কলকাতা পুরসভার কর্মীরা ছাড়াও লালাবাজারের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে ঘণ্টা দু’য়েকের চেষ্টায় গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করে দেন।
পুলিশ ও কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, এই গাছ ছাড়াও এ দিন উত্তর কলকাতার বিকে পাল অ্যাভিনিউ এবং দক্ষিণ কলকাতার গল্ফগ্রিন, ট্র্যায়াঙ্গুলার পার্ক, ডাক্তার সুধীর বসু রোড সহ বিভিন্ন এলাকায় মোট আটটি গাছ পড়েছে। তবে, আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড ছাড়া অন্য কোথাও যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবর নেই।
ট্র্যাফিক পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এ দিন গাছ পড়ে যাওয়ার ফলে এজেসি বসু উড়ালপুল থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুগামী সমস্ত গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। তবে, কলকাতাগামী রাস্তা খোলা থাকায় এই অংশে যান চলাচলের ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হয়নি। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হসপিটাল রোড, ডিএল খান রোড, এজেসি বসু উড়ালপুল, রবীন্দ্র সদনের কাছে চৌরঙ্গি রোড এবং এজেসি বসু রোডের সংযোগস্থল ও হরিশ মুখার্জি রোডেও যান চলাচলের প্রভাব পড়ে। যানজট থাকায় অনেক অফিস যাত্রী এ দিন হেঁটে অফিসে আসেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় হুগলি সেতুগামী সমস্ত গাড়িই ডিএল রোড হয়ে আলিপুর রোড ধরে এসে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
কলকাতা পুরসভার উদ্যান দফতরের এক আধিকারিক জানান, রাস্তার ধারে পূর্ত দফতরের এই জায়গায় এই গাছটি ছিল। গাছটি অনেক পুরনো।
পুরসভার উদ্যান দফতরের আধিকারিকের কথায়, এই ধরণের বড় গাছ যেগুলি ঝড়ে পড়ে বিপদ হতে পারে সেগুলি শহরের রাস্তায় লাগানো বারণ। তবে, যে গাছগুলি পড়েছে তা অনেক পুরনো। অনেকদিন আগেই লাগানো হয়েছিল। বর্তমানে বিপদের কথা ভেবেই রাস্তার ধারে বট, অশ্বত্থ, দেবদারু জাতীয় বড় গাছ নতুন করে লাগানো হচ্ছে না।