কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় সুরুচি সঙ্ঘে আনা হল স্বরূপ বিশ্বাসকে। মঙ্গলবার। ছবি: রণজিৎ নন্দী।
নিউ আলিপুরের সাহাপুর কলোনির ফ্ল্যাটে স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে গিয়ে সোমবার তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। মঙ্গলবার স্বরূপের ফ্ল্যাটের অদূরে, সুরুচি সঙ্ঘের পুজোর মাঠ ও ক্লাবে তাঁকে নিয়ে গিয়ে চলল পুলিশি তল্লাশি। সোমবারের মতো এ দিনও টানা চার ঘণ্টা তল্লাশি চলে। ভাঙা হয় ক্লাবের তালা।
যৌন হেনস্থা, তোলাবাজি, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে ৪ জুন গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার ধৃতকে নিয়ে তাঁর নিউ আলিপুরের সাহাপুর কলোনির ফ্ল্যাটে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। সেই অভিযানে মিলেছিল গোপন ঘরের সন্ধান।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ স্বরূপকে সুরুচি সঙ্ঘের পুজোর মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। এ দিনও চার ঘণ্টা তল্লাশি চলে। এ দিন সুরুচি সঙ্ঘের পুজোর মাঠ ও ক্লাবে স্বরূপকে নিয়ে তল্লাশি করার সময়ে বাইরে মোতায়েন ছিল বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সুরুচি সঙ্ঘের পাশের রাস্তা দু’দিক দিয়ে ঘিরে ফেলে তারা। বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই রাস্তা। পুলিশ সূত্রের খবর, ক্লাবের মাঠের ভিতরেও গোপন আস্তানার সন্ধান মিলেছে। সেখানে স্বরূপকে নিয়ে গিয়ে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বিকেল ৫টা নাগাদ চাবিওয়ালা এনে মাঠের পাশে ক্লাবের তালা ভাঙার কাজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। তত ক্ষণে স্বরূপকে পুজো প্রাঙ্গণে একটি ঘরে রাখা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, ক্লাবের তালার চাবি পেতে প্রথমে স্বরূপের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বরূপ সে বিষয়ে সদুত্তর দিতে না পারায় তালা ভাঙার কাজ শুরু করে পুলিশ। প্রায় আধ ঘণ্টা পরে তালা ভাঙার কাজ শেষ হলে স্বরূপকে পাশের পুজোমাঠ থেকে
ক্লাবে আনা হয়। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তল্লাশি শেষ করে তাঁকে নিয়ে বেরিয়ে যায় পুলিশ।
টালিগঞ্জে কলাকুশলীদের ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপকে দেখার জন্য এ দিন রাস্তায় প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে অবশ্য বেশি ক্ষণ এক জায়গায় ভিড় করতে দেওয়া হয়নি কাউকেই।
প্রসঙ্গত, নিউ আলিপুরের সাহাপুর কলোনির বহুতলে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে স্বরূপের। বহুতলের চারতলায় গোপন ঘরের ডিজিটাল তালা খুলতে চাবিওয়ালার সাহায্য নিয়েছিল পুলিশ। এ দিনও সুরুচি সঙ্ঘ ক্লাবের তালা খুলতে চাবিওয়ালার সাহায্য নেয় তারা। রাস্তার পাশে জড়ো হওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা স্বরূপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনেন। এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘গত ১৫ বছর এলাকায় কিছু কাজ করতে গেলেই স্বরূপকে মোটা টাকা দিতে হত। কেউ বৈধ ভাবে ব্যবসা করতে গেলে তাঁর থেকেও জোর খাটিয়ে টাকা আদায় করা হত।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে