River restoration

নদী সংস্কারে তোলা মাটিতে মিশে বালিও, প্রশ্ন বরাত নিয়ে

নদী থেকে পলি বা বালি তোলা নিয়ে তৃণমূল সরকারের আমলে অনেক জায়গাতেই সিন্ডিকেট মাফিয়ারা রাজত্ব চালিয়েছে বলে অভিযোগ। অন্দরের খবর, শাসকদলের নেতা এবং অসাধু ঠিকাদারদের সমন্বয়ে তৈরি সেই সব সিন্ডিকেটকে নিষ্ক্রিয় করতে ‘নো কস্ট ড্রেজ়িং’-এর কথা ভাবা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৮
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

সংস্কারের পরে নদী থেকে ওঠা মাটির সঙ্গে মিশে থাকছে বালি। আর তার জেরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সেচ দফতরের ‘নো কস্ট ড্রেজ়িং’ প্রকল্প নিয়ে। কারণ, যেহেতু মাটির সঙ্গে বালি মিশে থাকছে, তাই নদী থেকে পলি তোলার বরাত সেচ দফতর একা দিতে পারে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

নদী থেকে পলি বা বালি তোলা নিয়ে তৃণমূল সরকারের আমলে অনেক জায়গাতেই সিন্ডিকেট মাফিয়ারা রাজত্ব চালিয়েছে বলে অভিযোগ। অন্দরের খবর, শাসকদলের নেতা এবং অসাধু ঠিকাদারদের সমন্বয়ে তৈরি সেই সব সিন্ডিকেটকে নিষ্ক্রিয় করতে ‘নো কস্ট ড্রেজ়িং’-এর কথা ভাবা হয়। এতে লাভ ছিল দু’টি। প্রথমত, সংস্কারের পরে নদীর পাড়ে পলি কিংবা মাটির স্তূপ অনির্দিষ্ট কালের জন্য পড়ে থাকবে না। কারণ সংস্কারের টাকা তুলতে ঠিকাদার নিজের উদ্যোগেই মাটি বিক্রি করে দেবেন। ফলে ঝড়-বৃষ্টিতে সেই মাটি ফের নদীতে এসে মিশবে না। আর সরকারও আর্থিক ভাবে লাভবান হবে।

সেচ দফতর সূত্রের খবর, আচমকাই মাটির সঙ্গে বালিও তোলার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ভাবে বালি তুলতে দেওয়ার অধিকার সেচ দফতরের রয়েছে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ বালি, পাথরের মতো বিষয়গুলি রাজ্যের খনিজ উন্নয়ন ও বাণিজ্য নিগমের (ডব্লুবিএমডিটিসিএল) আওতায় আসে। বালিঘাট কিংবা বালি খাদানের নিলাম মূলত তারাই করে।

আধিকারিকদের একাংশের মতামত, নদী সংস্কারের জন্য যখন দরপত্র ডাকা হয়, তখন নির্দিষ্ট করে বলে দেওয়া থাকে কতটা গভীর করে মাটি কাটতে হবে। মাটির সেই স্তরে বালি থাকার কথা নয়। এমনও অভিযোগ উঠেছে, খাল ও নদী সংস্কারের কাজ সময়ের মধ্যে সিংহভাগ জায়গায় সম্পূর্ণ হয়নি। এই ফাঁকে ঠিকাদারদের একাংশ কোথাও কোথাও অতিরিক্ত মাটি তুলছেন, নদীখাত থেকে বালি তুলছেন। খাল ও নদীর পাড়ে জমছে সেই বালি এবং মাটি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও কোনও ঠিকাদারই একই দরপত্রে অতিরিক্ত মাটি তুলছেন। আর তা বিক্রি করে চলছে দুর্নীতির রমরমা কারবার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন