যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত।
শোনা যাচ্ছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুল্যান্সে চড়ে প্রশাসনিক সদর অরবিন্দ ভবনের দিক থেকে আর্ট-সায়েন্স মোড়ে এসেছিল কয়েক জন ডাকাবুকো ছাত্র। তারাই গোলমাল থামাতে যাওয়া অধ্যাপকদের উপরে চড়াও হয়ে নির্বিচারে মারধর করে বলে অভিযোগ। বলিউডি সিনেমার কায়দায় শুক্রবার বিকেলে এমন অভূতপূর্ব হিংসার ঘটনা নিয়ে শনিবারও চর্চা চলেছে যাদবপুরে। বেশির ভাগ ক্লাস ছুটি থাকলেও বিষয়টি নিয়ে বিচলিত কর্তৃপক্ষ এ দিনও আলোচনায় বসেন।
শিক্ষক মহলের বড় অংশই চাইছে, এই ঘটনায় পদক্ষেপ করুন কর্তৃপক্ষ, বেপরোয়া বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের লাগাম পরাতে কড়া শাস্তি দিন। কিন্তু যাদবপুর কর্তৃপক্ষ কী করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘কারা শিক্ষক-নিগ্রহে যুক্ত, তা মোটামুটি চিহ্নিত হয়েছে। বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিচ্ছি না। যাদবপুরে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। যাদবপুরের প্রাক্তনী, শিক্ষক এবং উপাচার্য হিসেবেও দ্ব্যর্থহীন ভাবে এর নিন্দা করছি।’’ তবে যাদবপুরের পরম্পরা, ছাত্রছাত্রীদের ভুল শোধরানোর সুযোগ দেওয়া হয় বলেও উপাচার্য জানিয়েছেন। যাদবপুরে পারতপক্ষে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করা হয় না। সুতরাং, কর্তৃপক্ষ এত বড় বিশৃঙ্খলায় কী পদক্ষেপ করবেন, তা স্পষ্ট নয়।
যাদবপুরে পুলিশ ডাকারও রীতি নেই। বেশির ভাগ জায়গায় সিসি ক্যামেরারও অভাব আছে। কিন্তু শুক্রবার ছাত্রদের দু’টি গোষ্ঠীর গোলমাল বার বার থামানোর চেষ্টার পরেও যে ভাবে কয়েক জন ছাত্র ইন্ধন জুগিয়ে দলবল জুটিয়ে এনে গোলমাল পাকায়, তা গুরুতর অন্যায় বলেই মনে করা হচ্ছে। শিক্ষকদের বড় অংশ দেখছেন, এই পড়ুয়াদের একটা অংশই রাতে মাদক সেবনে বাধা পেলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। সার্বিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির পিছনেও হস্টেলে র্যাগিংয়ে জড়িত কারও কারও ইন্ধন রয়েছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের অনেকের অভিযোগের তির ‘কালেক্টিভ’ বলে একটি গোষ্ঠীর দিকে। প্রসঙ্গত, দু’বছর আগে যাদবপুরের মেন হস্টেলে ছাত্র-মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েক জন বিচারাধীন অবস্থায় জেলে থাকলেও হস্টেলে আরও কয়েক জনের গোলমেলে ভূমিকা চিহ্নিত করেন কর্তৃপক্ষ। যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যায়নি।
শুক্রবারের ঘটনার পিছনে বিজ্ঞান শাখায় প্রভাবশালী ডব্লিউটিআই এবং আর্টসের একটি গোষ্ঠী আফসার দিকে আঙুল উঠেছে। আবার ওই সংগঠনগুলির তরফে এসএফআইয়ের প্ররোচনার কথা বলা হয়। এসএফআইয়ের বক্তব্য, আইসিসি-র ভোট নিয়ে তারা প্রচার করার সময়ে ডব্লিউটিআই ঝামেলা পাকায়। বাংলার অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ এবং এডুকেশনের ললিত মহাকূট জখম হলেও এখন বাড়িতে স্থিতিশীল অবস্থায়। অর্থনীতির ছাত্র, কেরলের বাসিন্দা এক তরুণ রাজ্যেশ্বরকে মারধরে জড়িত বলে নানা মহলের দাবি। আবার ভূগোলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে গোলমাল থামাতে যাওয়া শিক্ষকদের অশ্রাব্য গালিগালাজের অভিযোগ ওঠে। এসএফআই বা ডিএসএফের মতো কয়েকটি সংগঠন শিক্ষক নিগ্রহের নিন্দা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। কাল, সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির তরফে অরবিন্দ ভবনে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে