Disability

কোথায় সঙ্কল্প রক্ষা, প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ-হতাশা

এমনিতেই মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনা বা যুবকদের জন‍্য বরাদ্দ ভাতার সঙ্গে প্রতিবন্ধী ভাতার ফারাক অনেকের চোখে লাগছিল। এর পরে ন‍্যূনতম প্রতিশ্রুতিটুকুও রক্ষা না হওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী বা বিশেষ ভাবে সক্ষমদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা পক্ষ।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৮:০৮
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে ক্ষমতায় এলেই প্রতিবন্ধীদের ভাতা ১০০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করার আশ্বাস দিয়েছিল রাজ‍্যের বর্তমান শাসকদল। কিন্তু প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে সেই ভাতা ৫০০ টাকার বেশি বাড়ল না।

এমনিতেই মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনা বা যুবকদের জন‍্য বরাদ্দ ভাতার সঙ্গে প্রতিবন্ধী ভাতার ফারাক অনেকের চোখে লাগছিল। এর পরে ন‍্যূনতম প্রতিশ্রুতিটুকুও রক্ষা না হওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী বা বিশেষ ভাবে সক্ষমদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা পক্ষ।
‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনী’র সাধারণ সম্পাদক কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এ নিয়ে সার্বিক প্রতিবাদ হবে। আমরা খুব শীঘ্রই নবান্ন অভিযান করব এবং রাজ্য জুড়ে রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদ করব।” কান্তির কথায়, “এমনিতেই এ রাজ্যে প্রতিবন্ধীদের ভাতা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেক কম। কয়েকটি রাজ্যে তো প্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতা চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করছি এই ভাতা বাড়ানোর জন্য। হাজার পাঁচেক টাকা ভাতা ছাড়া এই সমাজ ব‍্যবস্থায় প্রতিবন্ধীদের টিকে থাকাই মুশকিল।” এই বাড়তি ভাতার দাবিটুকু যে ন‍্যূনতম অধিকারের দাবি, তা বুঝিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক, দৃষ্টিহীন যুবক ঈশান চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের দেশে প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্র হাত ধরাধরি করে চলে। অনেকেই কর্মক্ষম নন। কিন্তু তাঁদের ঘাড়ে ওষুধ, থেরাপির (নিরাময়) বিপুল বোঝা। অথচ, কোথাও চলাফেরার ছিটেফোঁটা পরিকাঠামোটুকু থাকে না। হাসপাতাল পর্যন্ত যেতেই বিপুল খরচ। তাঁদের ন‍্যূনতম মর্যাদার জীবনটুকু সরকারের নিশ্চিত করা উচিত।” যুবক প্রতিবন্ধীরা তা-ও যুবদের জন‍্য থাকা ভাতায় আসতে পারেন— এ কথা জানিয়ে ঈশানের আর্জি, বয়স্ক প্রতিবন্ধীদের সহায়তা, পুষ্টিকর খাবারের জোগান বিশেষ জরুরি।

প্রতিবন্ধীদের জন‍্য সরকারি হস্টেলে চার বেলা খাবারের বরাদ্দ মাত্র ৭৪ টাকা। এই অঙ্ক বাড়ানোর দাবি করেছেন প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর সদস‍্য, শিক্ষক অজয় দাস। রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ প্রতিবন্ধী মানুষের অনেকেই দারিদ্রসীমার নীচে বলে জানাচ্ছেন কান্তিও।

প্রতিবন্ধীদের ‘ন‍্যাশনাল কনফেডারেশন অব পেরেন্টস অর্গানাইজ়েশন’-এর সেন্ট্রাল এগ্‌জ়িকিউটিভ কাউন্সিলের সদস‍্য তথা অটিস্টিক এক যুবকের অভিভাবক, প্রবীণ সৌমেন উপাধ‍্যায় বলেন, “প্রতিবন্ধীদেরও ভোটাধিকার আছে, এটা সরকার মনে রাখে না। মহিলা বা যুবকদের ভাতা যত সহজে পাওয়া যায়, প্রতিবন্ধীদের ভাতার ফর্ম সেই ভাবে পাওয়াই যায় না। আগের সরকারের আমলে মানবিক ভাতা নাম দেওয়া হলেও বরাবর মানবিকতার বড়ই অভাব।”

সমাজকল‍্যাণ দফতরের সচিব মৌমিতা গোদারা বসু বললেন, “জনকল‍্যাণ শিবিরগুলিতে প্রতিবন্ধীদের ফর্মও দেওয়া হয়েছিল। সকলের কাছে ফর্ম ঠিকঠাক পৌঁছচ্ছে কিনা, তা আমরা দ্রুত খতিয়ে দেখছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন