মেয়র ফিরহাদ হাকিম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভোট বড় বালাই! বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট যে কোনও দিন ঘোষণা হতে পারে। এ দিকে,
ভোটারদের মন পেতে নিত্যনতুন একাধিক সরকারি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে শুরু করে উদ্বোধনের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। তার জেরে যেমন কলকাতা পুরসভার ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠান অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, তেমনই অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি প্রকল্পের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে কার্যত নাজেহাল দশা পুরসভার সচিব বিভাগের।
কলকাতা পুর এলাকা তো বটেই, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে একাধিক সরকারি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন উপলক্ষে প্রায়ই শহরের বাইরে যাচ্ছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ফলে নাগরিক পরিষেবা প্রদানে প্রতি শুক্রবারের ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠান এখন অনিয়মিত। পুরসভার ওয়েবসাইট, ওয়টস্যাপ গ্রুপে গত দেড় মাস ধরে বেশির ভাগ সপ্তাহেই জানানো হচ্ছে যে, বিশেষ কারণবশত অনুষ্ঠানটি হচ্ছে না। পুরসভা সূত্রের খবর, আগামী তিন মাস এমন অচলাবস্থা চলবে।
অন্য দিকে, বিভিন্ন প্রকল্পের শিলান্যাস থেকে উদ্বোধনের জন্য প্রায়ই কলকাতায় একাধিক
অনুষ্ঠান হচ্ছে। কলকাতার ক্ষেত্রে পুরসভার সংশ্লিষ্ট দফতর এ নিয়ে পুর সচিবালয় দফতরকে জানায়। সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে পুর সচিবালয় দফতর নিত্যদিনের অনুষ্ঠানের ফাইল তৈরি করে থাকে। অনুষ্ঠানের কার্ড ছাপানোর দায়িত্ব পুর সচিবালয়েরই।
পুরসভা সূত্রের খবর, প্রতিদিন একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে গিয়ে কার্যত নাজেহাল দশা পুর সচিব বিভাগের। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘একেই লোকবল কম। তার
উপরে রোজ কমপক্ষে দু’টি করে অনুষ্ঠান, তার জন্য সব কিছু ব্যবস্থা করা। যত দিন যাচ্ছে, চাপ তত বাড়ছে।’’ অনুষ্ঠানের জন্য পুরসভার প্রেসে কার্ড ছাপানো, ভিত্তিপ্রস্তরের জন্য পাথরের বায়না দিতে ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা— সবই করতে হচ্ছে পুর সচিব বিভাগকে।
ওই বিভাগের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, গত এক মাস ধরে অন্য সব কাজ ছেড়ে এ দিকেই নজর দিতে হয়েছে। বিভিন্ন জল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর থেকে শুরু করে নতুন বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের উদ্বোধন— সংখ্যাটা কম নয়। স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানও রয়েছে। আছে গণ শৌচাগারের উদ্বোধন কর্মসূচি। রমজান চলায় এখন সকাল-দুপুরের দিকে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে।
কলকাতা পুরসভার বিরোধী বিজেপি পুরপ্রতিনিধি সজল ঘোষের অভিযোগ, ‘‘ভোটের মুখে তড়িঘড়ি সরকারি অনুষ্ঠানের হিড়িক আসলে নতুন বোতলে পুরনো কাসুন্দি। অনেক ক্ষেত্রে পুরনো প্রকল্পগুলিই নতুন বলে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে টুপি পরানো হচ্ছে।’’
তবে সেই অভিযোগ উড়িয়ে কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের জবাব, ‘‘যে প্রকল্পের টেন্ডার হয়ে যায়, তার কাজ শুরু করার আগে পুরসভা সরকারি অনুষ্ঠান তো করবেই। যে প্রকল্পগুলি আছে, ভোটের আগে তা শেষ করা ও নতুন কাজ শুরু করা চিরাচরিত নিয়ম। সিপিএম আমলেও হয়েছে, দিল্লিতে বিজেপিও করছে। সজল কালকের ছেলে, সরকারি নিয়ম জানেন না। ভোট ঘোষণার আগে পুরসভার সব কর্মকাণ্ড সরকারি নিয়ম অনুযায়ীই হচ্ছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে