কলকাতায় গত কয়েক দিন ধরেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। —ফাইল চিত্র।
শনিবার কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দু’দিন আগেই শহরে ঝেঁপে বৃষ্টি নেমেছিল। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মোদীর সভার আগে-পরে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে কি? অনেকেই তা নিয়ে চিন্তিত। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাল, শনিবার শহরে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তবে বৃষ্টি হবে রবিবার থেকে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবার থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত কলকাতায় বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে থাকবে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। তবে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে রবিবার এবং সোমবারের জন্য। এই দু’দিন ঝড়বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও। কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটারেও। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং নদিয়ায় এই দু’দিন সতর্কতা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে মঙ্গলবার পর্যন্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে সোমবারের পর সতর্কতা রয়েছে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবারের জন্য। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে সর্বত্র।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আগামী দু’দিনে দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি বাড়তে পারে। তার পরের দু’দিনে আবার তাপমাত্রা কমবে।
উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত টানা উত্তরের সব জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে সর্বত্র। তবে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পঙে সোমবার ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে। আপাতত আগামী সাত দিনে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রার তেমন হেরফের হবে না।
শনিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.১ ডিগ্রি বেশি। শুক্রবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.১ ডিগ্রি বেশি। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপরে যে ঘূর্ণাবর্তটি ছিল, তা কিছুটা শক্তি হারিয়েছে। তবে তার চারপাশে অক্ষরেখাটি এখনও রয়ে গিয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তার উচ্চতা দেড় কিলোমিটার থেকে সাড়ে চার কিলোমিটারের মধ্যে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে। তাই ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।