Taratala Godown Roof Collapse

জানি না, ওই সব দৃশ্য এ জীবনে ভুলতে পারব কিনা

প্রতিদিনই কাজে যাওয়ার সময়ে দেখতাম, ওই গুদামের ভিতরে কাজ চলছে। বুধবার সকালেও যখন কাজে যাই, তখনও দেখেছিলাম, সেখানে কাজ করছেন অনেকে।

বিশাল আগরওয়াল (পাশের গুদামের শ্রমিক)

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ০৭:৫৭
Share:

বিশাল আগরওয়াল।

ভেঙে পড়া গুদামের ভিতরে যখন ঢুকি, তখন চার দিকে শুধুই ধুলো! এমনই অবস্থা যে, কিছুই ভাল করে দেখা যাচ্ছিল না। লোহার বিশাল কাঠামোগুলি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে রয়েছে। আর্তনাদের আওয়াজ আসছে অনেকের। সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য যাঁরা দেখেননি, তাঁদের ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। এ জীবনে এতটা বীভৎস, ভয়াবহ কোনও কিছুর যে সাক্ষী হতে হবে, তা কোনও দিনও ভাবিনি।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্মীয়মাণ ওই গুদামের কাজ চলছিল। পাশের একটি গুদামে আমি কাজ করি। প্রতিদিনই কাজে যাওয়ার সময়ে দেখতাম, ওই গুদামের ভিতরে কাজ চলছে। বুধবার সকালেও যখন কাজে যাই, তখনও দেখেছিলাম, সেখানে কাজ করছেন অনেকে।

এ দিন তখন বেলা সাড়ে ১২টা হবে। পাশের গুদামে কাজ করছিলাম। হঠাৎ শুনি, বিকট শব্দ। বিশাল বড়সড় কিছু ভেঙে পড়ার আওয়াজ। তখনও আন্দাজ করতে পারিনি যে, পাশের নির্মীয়মাণ গুদামটি একেবারে মাটিতে মিশে গিয়েছে। আমাদের গুদামের কর্মীরা ছুটে গিয়ে বাইরে বেরিয়ে দেখেন, পাশের গুদামের ওই অবস্থা। আমরা হাতে গোনা কয়েক জন সে কথা শুনেই কোনও কিছু না ভেবে দৌড়ে ধ্বংসস্তূপের কাছে চলে যাই। সেখানে পৌঁছতেই শুনতে পাই, ভিতর থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ আর্তনাদ আসছে। সেই সঙ্গে রক্তের ধারা। কাকে খবর দেব, কী করব, কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলাম। তত ক্ষণে অবশ্য আশপাশের আরও অনেকে চলে আসেন। সকলে মিলে যে যে ভাবে পারি, ধ্বংসস্তূপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতে থাকি। সেই সঙ্গে চিৎকার করে জিজ্ঞাসা করছিলাম, ভিতরে কত জন আটকে আছেন? চার জনকে কোনও মতে বার করতে পেরেছিলাম। তাঁদের মধ্যে তিন জন কথা বলছিলেন। এক জন কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। জানি না, তিনি বেঁচে আছেন কিনা। সকলেরই সারা শরীর ছিল রক্তাক্ত।

এর পরেই অবশ্য উদ্ধারকারী দল চলে আসে। গোটা জায়গাটি ঘিরে দেয় তারা। তাদের সঙ্গে আমরাও উদ্ধারে হাত লাগিয়েছিলাম। কিন্তু বেশি ক্ষণ আর পারিনি। পুলিশও আমাদের সকলকে বাইরে বার করে দেয়। এর পরে শুধু একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকতে দেখেছি ভিতরে। উদ্ধার হওয়া লোকজনকে নিয়ে সেগুলি আবার ছুটে যাচ্ছিল হাসপাতালে। এক-এক জন এমন ভাবে জখম হয়েছিলেন, চোখে দেখা যাচ্ছিল না। জানি না, ওই সব দৃশ্য এ জীবনে আদৌ কোনও দিন ভুলতে পারব কিনা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন