জমি মিললেও অনিশ্চিত ওয়াটগঞ্জের নতুন জেটি

জেটি তৈরির জন্য অনেক দিন আগেই বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন কলকাতা পুরকর্তৃপক্ষ। সেই অনুমতিও পেয়েছেন পুরকর্তৃপক্ষ।

Advertisement

কৌশিক ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০১৫ ০০:৩২
Share:

জেটি তৈরির জন্য অনেক দিন আগেই বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন কলকাতা পুরকর্তৃপক্ষ। সেই অনুমতিও পেয়েছেন পুরকর্তৃপক্ষ।

Advertisement

কিন্তু তা সত্বেও জেটি তৈরি নিয়ে সমস্যা থেকেই গেল। জেটির কাজ কবে শুরু হবে তা অনিশ্চত।

কলকাতা পুরসভার জল সরবরাহ দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল বিভাস মাইতি বলেন, ‘‘এখানে জেটি তৈরির জন্য যে ধরনের পারদর্শীতা প্রয়োজন তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে, দরপত্র ডাকা হলেও পরিকাঠামোগত অভাব থাকায় এই প্রকল্প বাস্তাবায়িত করা যাচ্ছে না। তবে, বিষয়টি যাতে দ্রুত ফলপ্রসূ করা যায় সেই ব্যাপারে আলোচনা চলছে।’’

Advertisement

ওয়াটগঞ্জ ট্রিটমেন্ট প্লান্টে প্রয়োজনীয় পানীয় জল সরবরাহের জন্য নদী থেকে অপরিশুদ্ধ জল তোলা দরকার। এর জন্য প্রয়োজন ছিল বড় জেটির। প্রথমে বন্দর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র না পাওয়ায় ওয়াটগঞ্জে বড় জেটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে জলের যোগান কম হওয়ায় এলাকায় জলসঙ্কট রয়েই গিয়েছে। অবশেষে, কিছুদিন আগে সেই জমির ছাড়পত্র মিলছে। কিন্তু কাজ শুরু হয়নি।

কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা মেয়র পারিষদ (জল) শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “জেটির জন্য প্রস্তাবিত জায়গা না পাওয়া পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হয়নি। আমরা পুরসভায় ক্ষমতায় আসার পরেই বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমি পাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানাই। অবশেষে ছাড়পত্র মিলেছে। কিন্তু প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যা থেকেই গিয়েছে। নতুন ধরনের জেটি তৈরির কথা ভাবা হয়েছে। সমস্ত নিয়মকানুন মেনেই দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’’

এই জল প্রকল্পের কী সমস্যা ছিল?

দক্ষিণ কলকাতায় ওয়াটগঞ্জ, খিদিরপুর, কবিতীর্থ, ইকবালপুর-সহ মোট ছ’টি ওয়ার্ডে পানীয় জল সরবরাহের জন্য ২০০১-এ তত্‌কালীন তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডে ওয়াটগঞ্জে জলপ্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক হয় প্রত্যেক দিন ৫০ লক্ষ গ্যালন জল সরবরাহ করা হবে। ২০০১-এ ওয়াটগঞ্জ জলপ্রকল্পের শিলান্যাস হয়।

পুরসভার এক আধিকারিক জানান, এই পরিমাণ পানীয় জল সরবরাহ করতে হুগলী নদী থেকে রোজ প্রায় ৮০ লক্ষ গ্যালন অপরিশেধিত জল তোলার প্রয়োজন। এই জল ওয়াটগঞ্জ ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পরিশোধন করার পরে তা পুরসভার ছ’টি ওয়ার্ড-৭৫, ৭৬, ৭৭, ৭৮, ৭৯ এবং ৮০ ওয়ার্ডে রোজ সরবরাহ করার কথা। এই জল সরবরাহ করার জন্য বড় জেটির প্রয়োজন।

বড় জেটির জন্য যে জায়গার প্রয়োজন তা না থাকায় বড় জেটি তৈরি করা যায়নি। ফলে, সমস্যা মেটাতে ট্রিটমেন্ট লাগোয়া একটি ছোট জেটি তৈরি করেই কাজ চালানো হয়। পরিকাঠামোগত কারণেই ছোট জেটির মাধ্যমে সব সময় অপরিশুদ্ধ জল তোলাও সম্ভব হয় না। এছাড়াও, ছোট জেটিটি যেখানে রয়েছে সেখানে ভাটার সময়ে জল তোলা কার্যত অসম্ভব। তাই জলের ঘাটতি আছে বলে পুরকর্তৃপক্ষের দাবি। পুরসভার জল দফতরের সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে ওয়াটগঞ্জ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে রোজ ৫০ লক্ষ গ্যালনের পরিবর্তে ৩০ লক্ষ গ্যালন জল উত্‌পন্ন করা হয়।

স্থানীয় কাউন্সিলর সিপিএমের বিলকিস বেগম অভিযোগ করেন, “ওয়াটগঞ্জ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের জন্য ওয়াটগঞ্জে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করা হয়েছিল। কিন্তু যে পরিমাণ জল সরবরাহ দরকার তা হচ্ছে না। তাই এখানে জল সরবরাহের যোগান অনেকাংশেই কমে গিয়েছে। এই বছর পুজোর আগেই জেটি তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন মেয়র। কিন্তু এখনও তা কাযর্কর হয়নি।”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন