—প্রতীকী ছবি।
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের পেনশন এবং অবসরকালীন সুবিধার বিষয়টির নিয়ন্ত্রণ রাজ্য সরকারের হাতে থাকা নিয়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কা দূর করতে তৎপর হয়েছে রাজ্য উচ্চ শিক্ষা দফতর। ২০২৬ সালের জুন বা তার পরে যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের সার্ভিস বুক সাম্প্রতিক নথি-সহ প্রস্তুত করে ডিপিপিজি (ডিরেক্টরেট অব পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যান্ড গ্রুপ ইনশিয়োরেন্স)-কে পাঠাতে তারা নতুন করে নির্দেশ দিয়েছে। ডিপিপিজি সমস্ত নথি বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি-সহ অবসরকালীন সুবিধা নির্ধারণ করবে বলে জানিয়ে সরকারি তরফে আশ্বাস, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নির্ধারণ সম্পূর্ণ করতে না-পারলেও কারও পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধায় কার্যত কোপ পড়বে না। শর্তসাপেক্ষ বা অস্থায়ী পেনশন পর্বেও সবার প্রাপ্য টাকার পুরোটা পর্যন্ত দেওয়া যাবে।
গত সেপ্টেম্বরেই রাজ্য উচ্চ শিক্ষা দফতর জানায়, ডিপিপিজি কার কত প্রাপ্য, তা চূড়ান্ত করার আগে পর্যন্ত অস্থায়ী ভাবে তিন-চতুর্থাংশ পেনশন পাবেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীরা। তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকেই পথে নামেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এমপ্লয়িজ় ইউনিয়নের সভাপতি শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁরাও শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষাসচিবকে সদ্য চিঠি লিখেছেন। বিভিন্ন রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিও সম্প্রতি অধ্যাপক-শিক্ষাকর্মীদের অবসরকালীন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা নিয়ে সরব হয়েছে। এ সবের জেরেই বিকাশ ভবন তাদের অবস্থান থেকে সরছে বলে ধারণা। গত শুক্রবার প্রকাশিত নির্দেশিকায় শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের আশঙ্কার কথা স্বীকার করে কলকাতা ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দু’টি চিঠি পাওয়ার কথা জানান বিকাশ ভবন কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে এ বছরের জুনের মধ্যে যে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীরা অবসর নিচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগের রীতি মেনেই তাঁদের পেনশন, অবসরকালীন সুবিধার নিষ্পত্তি করতে পারবে।
তবে, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পেনশন এবং অবসরকালীন সুবিধার বিষয়টি যে ডিপিপিজি-র হাতেই যাচ্ছে, তা-ও বুঝিয়েছে বিকাশ ভবন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বেশ কিছু শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীর পেনশনে অনিয়ম বা অন্যায় সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ঘটনা উচ্চ শিক্ষা দফতরের নজরে এসেছে। এখন যাঁদের পেনশন, অবসরকালীন সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ঠিক করতে বলা হল, তাঁদের কাউকে বাড়তি টাকা দেওয়া হলে তা গ্র্যাচুইটির ভাগ কিংবা ভবিষ্যতের পেনশন থেকে কেটে নেওয়া হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় শনিবার বলেন, “পেনশনে হিসাবের ভুলের কোনও ঘটনা ঘটে থাকলে শুধরোনো হোক। তা বলে পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।” পেনশন সমস্যা ও যাদবপুরের প্রাপ্য আর্থিক সংস্থানের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অবস্থানে শামিল হবে যাদবপুরে সংশ্লিষ্টদের ঐক্য মঞ্চ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে