শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির সঙ্গে দেখা করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সকালে লোকভবন (সাবেক রাজভবন)-এ গিয়ে রবির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পর বাইরে বেরিয়ে শুভেন্দু জানান, তিনি রাজ্যে সংবিধান এবং গণতন্ত্র বাঁচানোর আর্জি জানিয়ে এসেছেন। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অপমান’ করার অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং ডিজি পীযূষ পাণ্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।
লোকভবনের বাইরে শুভেন্দু বলেন, “রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মহোদয়ার সঙ্গে যা ঘটেছে, এটা নিয়ে সকলে উদ্বিগ্ন।” পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল মানা হয় না, এমনটা দাবি করে শুভেন্দু জানান, তিনি বিষয়টি রাজ্যপালকে বলেছেন। এই সূত্রেই শুভেন্দু জানান, মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার জন্য তিনি রাজ্যপালের কাছে আর্জি জানিয়ে এসেছেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজ্যে গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভ ভেঙে পড়েছে। দাবি, এই বিষয়েও নতুন রাজ্যপালকে অবহিত করেছেন বিরোধী দলনেতা।
শুক্রবার রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি-র সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী কনফারেন্সে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন মুর্মু। শিলিগুড়ির বিধাননগরে যেখানে তাঁর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, সেই স্থান পরিবর্তন করা হয়। নিরাপত্তার কারণে বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। এই স্থান পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি পরে বিধাননগরে পৌঁছে যান এবং সেখান থেকে রাজ্য প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। কেন মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি, সেই প্রশ্নও তোলেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে রাষ্ট্রপতিকে ‘অপমানের’ অভিযোগ তোলে বিজেপি। সরব হন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরা। যার জবাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ নেতা-নেত্রীরা।
বৃহস্পতিবার বেলায় রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল হিসাবে শপথ নেন রবি। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। রবির শপথগ্রহণে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। লোকভবন সূত্রে জানা যায়, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় শুভেন্দুকেও। তবে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে থাকার কারণে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি তিনি। তাই শুক্রবার লোকভবনে গিয়ে নতুন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে এলেন তিনি।