Congress and CPIM Protest

উচ্ছেদ বন্ধে কংগ্রেসের লোকভবন অভিযান, সমাবেশে শ্রমিকেরা

পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে লোকভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল কংগ্রেস।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ০৮:৪৮
Share:

লোকভবন অভিযানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও অন্যেরা।

পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না, এই দাবিকে সামনে রেখে বুধবার আলাদা ভাবে পথে নামল কংগ্রেস এবং বাম-সহ কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। কংগ্রেসের লোকভবন (সাবেক রাজভবন) অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল।

পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে লোকভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল কংগ্রেস। পুলিশ মিছিল আটকালে দু’পক্ষে বচসা শুরু হয়। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ দলীয় নেতৃত্বকে আটক করে লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাঁরা ছাড়া পান। এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে শুভঙ্কর বলেছেন, “বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে। এখন যখন পুনর্বাসন না-দিয়ে হকার উচ্ছেদ হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী চুপ কেন?” তাঁর সংযোজন, “গরিব মানুষের বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। আর যাঁরা বড় বড় বাড়ি তৈরি করলেন, তাঁরা বিধায়ক হয়ে বিজেপির কাছে গিয়ে দল বদলাচ্ছেন!” আইন মেনে হকারদের বিষয়টির নিষ্পত্তি, বেআইনি নির্মাণের ‘মদতদাতাদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ন্যায্য ভোটারদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, পেট্রোপণ্যের দাম কমাতে কেন্দ্র ও রাজ্যের ব্যবস্থা, রাজ্যে পালাবদলের পরে ‘আইন হাতে তুলে নেওয়া’র প্রবণতা বন্ধের মতো বিভিন্ন দাবিতে রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে দাবিপত্র দিয়েছেন শুভঙ্করেরা।

একই বিষয়ে রেল হকার, পথ-হকার সংগঠন, কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন, শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনগুলির ডাকে পূর্ব রেলের সদর দফতর ফেয়ারলি প্লেসের কাছে সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের তরফে অনাদি সাহু, অলকেশ দাস, গার্গী চট্টোপাধ্যায়, বিপ্লব ভট্ট, দেবাশিস দে, কামারুজ্জামান কামার, শান্তি ঘোষ, সুখরঞ্জন দে প্রমুখ। সেখানেই সিটুর রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম বলেছেন, “হকারেরা রেলের উন্নতির বিরোধী নন। কিন্তু নির্দিষ্ট নোটিস না-দিয়ে, ভেন্ডিং কমিটি গঠন না-করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার বুলডোজ়ার দিয়ে তাঁদের কর্মহীন করার ব্যবস্থা করছে। এই রাজ্যে ১০ লক্ষের বেশি রেল হকার আছেন। তাঁদের রুটি-রুজি বন্ধ হলে অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়বে।” কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির নেতৃত্ব পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করে দাবিপত্রও দিয়েছেন।

পাশাপাশি, গরিফা রেল কলোনিতে ১৩ জুনের মধ্যে জমি খালি করার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল রেল। এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাম দলগুলির সহযোগিতায় কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন বাসিন্দাদের একাংশ। সিপিএম, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন নেতৃত্ব জানিয়েছেন, কোর্টের নির্দেশ, আগামী ১৭ জুন পরবর্তী শুনানি না-হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। বুলডোজ়ার-তাণ্ডবের অভিযোগ তুলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮বি পর্যন্ত হয়েছে নাগরিক মিছিলও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন