রাজ্য জুড়ে কমল মদের বিক্রি। —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
১ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সব ধরনের মদের দাম বাড়িয়েছিল রাজ্য আবগারি দফতর। ঠিক সেই মাসেই ২০ শতাংশের বেশি পরিমাণ মদের বিক্রি কমে গেল বাংলা জুড়ে। সম্প্রতি আবগারি দফতরের হাতে যে রিপোর্টে এসেছে, তাতে এমন পরিসংখ্যান ধরা পড়েছে। নভেম্বর মাসে আবগারি দফতরের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ৭৫০ মিলিলিটার বিদেশি মদের বোতলে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়বে। পাশাপাশি, ১৮০ মিলিলিটারের ক্ষেত্রে বোতল প্রতি ১০ টাকা দাম বৃদ্ধি করা হবে। দেশি এবং অন্য লাইসেন্সওয়ালা মদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিয়ারকে আপাতত এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
আবগারি দফতর সূত্রে খবর, জানুয়ারি মাসে যখন ডিসেম্বরে রাজ্যের জেলাভিত্তিক মদ বিক্রির হিসাব কষা হয়েছে, তখন দেখা গিয়েছে, নভেম্বর মাসের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি পরিমাণ বিক্রি কমে গিয়েছে। অথচ প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের বিক্রি হয় রেকর্ড পরিমাণে। বড় দিনের ছুটির জন্য বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র তো বটেই, কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মফস্সল শহরে মদের বিক্রির পরিমাণ থাকে ভালই। কিন্তু এ বছর দেখা গিয়েছে যে, দাম বৃদ্ধির পর নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বরের মদ বিক্রির পরিমাণ অনেকটাই কমে গিয়েছে।
ডিসেম্বর মাসে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের মদের দাম বাড়িয়েছিল আবগারি দফতর। সেই ডিসেম্বর মাসেই রাজ্য জুড়ে দেশি মদ বিক্রি হয়েছে, ৪৮,২৩,৭,০৩১ বোতল। যা গত নভেম্বর মাসের বিক্রির তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম। নভেম্বর মাসে ১,২০,৫৯,২৫৭ বোতল মদ বেশি বিক্রি হয়েছিল। এর কারণ প্রসঙ্গে নিজেদের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির একটি অংশকেই চিহ্নিত করেছে আবগারি দফতর। ওই দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, “বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পুরনো দামে মজুত মদ বিক্রি করতে পারবেন পরিবেশক ও পাইকারি বিক্রেতারা। তবে ওই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে পুরনো মূল্যে বিক্রি করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জরিমানা থেকে লাইসেন্স বাতিল— সব ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা খোলা রাখা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা খুচরো মদ বিক্রেতাদের কাছ থেকে যা জানতে পেরেছি, বিজ্ঞপ্তির কথা সুরাপ্রেমীরা জানতেই নভেম্বর মাসে মদ কিনে মজুত করতে শুরু করেন। ফলে ডিসেম্বর মাসের বিক্রিতে তার প্রভাব পড়েছে।”
তবে এমন পরিসংখ্যানে চিন্তিত নয় আবগারি দফতর। তাদের আশা, এই বৃদ্ধির ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা যাবে। রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য আবগারি নীতি সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের একাংশ।