রেড রোডে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীর মঞ্চ থেকেও এসআইআর নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর আয়োজিত ধর্মতলার কর্মসূচি থেকে মমতা এই প্রশ্নও তুললেন, ‘‘নেতাজি বেঁচে থাকলে তাঁকেও কি হিয়ারিংয়ে ডাকা হত?’’ ইতিমধ্যেই নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসু শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। সেই প্রসঙ্গও জুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসআইআর ‘আতঙ্কে’ মৃতদের প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে শুক্রবার ফের নিশানা করেন মমতা। বলেন, ‘‘এত মানুষ মারা যাচ্ছেন। প্রায় ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোজ আতঙ্কে তিন-চার জন করে আত্মঘাতী হচ্ছেন। কেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা হবে না? কেন্দ্রীয় সরকারকে এর দায় নিতে হবে। পার্টির নাম না-হয় না-ই বললাম।’’ যেহেতু কর্মসূচিটি ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, তাই সেই মঞ্চ থেকে বিজেপি শব্দটি উল্লেখ করেননি মমতা। কিন্তু ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কী বলতে চাইছেন তিনি।
দেশের ইতিহাসকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতের ইতিহাস গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। মনীষীদের অসম্মান করা হচ্ছে। ভাষার প্রতি অসম্মান চলছে।’’ সেই সঙ্গেই জুড়ে দেন নেতাজির প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, ‘‘নেতাজি প্ল্যানিং কমিশন তৈরি করেছিলেন। জেনেবুঝে সেটা তুলে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে তৈরি করা হয়েছে নীতি আয়োগ। সেটা খায় না মাথায় দেয় কেউ জানে না।’’
রেড রোডের অনুষ্ঠানের পর যোগমায়া কলেজে সরস্বতীপুজোয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —নিজস্ব চিত্র।
কেন এখনও ২৩ জানুয়ারিকে জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করা হল না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে, নেতাজির জন্মদিনটিকে এখনও জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করা হয়নি। আমরা তাঁর মৃত্যুদিনটাও জানতে পারিনি।’’ এসআইআর-সহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতা বলেছেন, ‘‘এটা কৌরবপক্ষের সঙ্গে লড়াই। মানবিকতার সঙ্গে দানবিকতার লড়াই।’’ এই প্রসঙ্গেই নেতাজির স্লোগান উল্লেখ করে ‘দিল্লি চলো’র ডাকও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসআইআরের জন্য সাধারণ মানুষকে যে ‘যন্ত্রণা’র মধ্যে পড়তে হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা ডাক দেন সর্বাত্মক প্রতিবাদের। তাঁর কথায়, ‘‘আজকে যারা মানুষকে যন্ত্রণা দিচ্ছে, তাদেরও যন্ত্রণা পোহাতে হবে।’’ শুক্রবারের কর্মসূচি থেকে মমতা জানান, তাঁর বাড়িতে একটি মেয়ে থাকেন যাঁর পরিবারের সকলকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে এসআইআরের নোটিস পাঠানোর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠিয়ে বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক জানতে চাইছে। বিয়েটাও ওরা ঠিক করে দেবে। কে কার সঙ্গে প্রেম করবে, সেটাও ঠিক করে দিতে চাইছে।’’
দিল্লিতে নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কলকাতার এলগিন রোডে নেতাজি ভবনে শুক্রবার সকালে পৌঁছেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ছিলেন নেতাজির ভ্রাতষ্পুত্র তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুগত বসুও।