ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৯৯৯ কোটি! ঘুম নেই সারা রাত

নাম রাজারাম হলেও একটি রাতের রাজা হয়ে দু’চোখের পাতা এক করতে পারলেন না। রাতারাতি আমির হয়ে নির্ঘুম রাত কাটল সরজেরাও রাজারাম যাদবের।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:১৭
Share:

সরজেরাও রাজারাম যাদব। সেই এটিএম স্লিপ। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক

নাম রাজারাম হলেও একটি রাতের রাজা হয়ে দু’চোখের পাতা এক করতে পারলেন না। রাতারাতি আমির হয়ে নির্ঘুম রাত কাটল সরজেরাও রাজারাম যাদবের।

Advertisement

ঘড়ির কাঁটাতেও যেন ভরসা নেই। বাইরে আলো ফুটল কিনা দেখতে আধঘণ্টা পর পর জানালা খুলেছেন। শীতের রাতে গায়ে রাখতে পারেননি একটা চাদরও। যে জামা গায়ে দিয়ে কাজে গিয়েছিলেন গা থেকে নামাননি তা। ওই জামার বুক পকেটেই রাখা ন’শো নিরানব্বই কোটি টাকার স্লিপ।

রাজারাম যাদব পেশায় রুপোর গয়নার কারবারি। শুক্রবার রাতে কাজ থেকে ফেরার পথে শিলিগুড়ির ক্ষুদিরামপল্লীতে এটিএমে ঢুকেছিলেন। কিন্তু টাকা নেই জানতে পেরে নিজের অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স দেখতে চান। আর তাতেই হাত পা ঠান্ডা হওয়ার জোগাড়। জানতে পারেন, অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ন’শো নিরানব্বই কোটি টাকা। দিনে অন্তত বারো বার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। কিন্তু সেই মুহূর্তে ভুলে যান স্ত্রীর নম্বরও। তাই তড়িঘড়ি রওনা দেন বাড়ির পথে। সরজেরাওয়ের স্ত্রী মনীষাদেবী জানান, বাড়ি ফিরে একটা গোটা চাপাটিও খেতে পারেননি তাঁর স্বামী। ‘‘আমিও তো ঘুমোতে পারিনি। উনি রাত দু’টো পর্যন্ত ঘরে পায়চারি করেছেন। বারবার পকেটে হাত দিচ্ছিলেন। আমি তো ভাবলাম বুকে ব্যথা শুরু হচ্ছে বুঝি।’’

Advertisement

স্ত্রীই জানান, রাত তিনটেয় আবার এটিএমে যেতে চাইছিলেন স্বামী। তাঁর আপত্তিতেই যেতে পারেননি। অ্যাকাউন্টে বিপুল টাকার খবর চাউর হলে আয়কর দফতর হানা দেবে, পুলিশ ধরবে এই ভয় চেপে বসে। মাঝরাতে টিভিতে খবরের চ্যানেল দেখতে শুরু করেন। এ দিন দুপুরে পুলিশের থেকে অভয় পাওয়ার পরে সরজেরাও বলেন, ‘‘ভোর চারটে নাগাদ চোখের পাতা লেগে আসে। এক ঘণ্টার বেশি ঘুমোতে পারিনি।’’

তাই রাতভর আলো জ্বলেছে হাকিমপাড়ার চারতলা বাড়ির কামরায়। রাতেই পুলিশে ফোন করবেন বলে মনস্থ করেন ওই দম্পতি। সরজেরাওবাবু বলেন, ‘‘পুলিশে ফোন করতে গিয়ে দেখি রাত সাড়ে তিনটে বাজে। অত রাতে ফোন করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সেই ভেবে আর করিনি।’’ শনিবার ভোরের আলো ফুটতেই ফের আরেকটি এটিএমে গিয়ে ব্যালেন্স মিলিয়ে দেখেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে মাইনাস ব্যালেন্স। তাও এক-দু’ টাকা নয়। বিয়োগ চিহ্নের পরে ৯৯৯ কোটি টাকা।

শিলিগুড়ি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সংমিত লেপচা বলেন, ‘‘ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী সোমবার ব্যাঙ্ক খোলার পরে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’’ এ দিন দুপুরেই পুলিশের তরফে ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, সার্ভারে কোনও গোলমালের কারণে ব্যালেন্সে ভুল হতে পারে। মহারাষ্ট্রের সাঙ্গালি জেলার তাসগাঁওয়ের শাখায় সরজেরাও এবং তাঁর স্ত্রীর জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কাজের সূত্রেই গত তিন বছর ধরে শিলিগুড়ির বাসিন্দা ওই দম্পতি।

ব্যাঙ্কের দাবি, এত বিপুল অঙ্কের টাকা কারও অ্যাকাউন্টে জমা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তা আয়কর দফতরের নজরে আসত। এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু হয়নি। যান্ত্রিক ত্রুটিই ব্যালেন্স বিভ্রাটের কারণ বলে ব্যাঙ্ক কর্তারা মনে করছেন। আর তা শুনেই হাঁফ ছেড়েছেন স্বামী-স্ত্রী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement