East Midnapore

দু’বছর বার্ধক্য ভাতার প্রাপক যুবক

উজ্জ্বল জানিয়েছেন, তিনি বার্ধক্য ভাতা পেতে আবেদন করেননি। তাঁর বাবা প্রভাত রাজ্য সরকারের এক দফতরের আধিকারিক ছিলেন। তিনিও বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার যোগ্য নন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫৩
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বয়স মাত্র ৪০ বছর। কিন্তু তিনি বার্ধক্য ভাতা প্রাপক। যখন ভাতা পেতে শুরু করেছিলেন তখন বয়স আরও কম ছিল। ঘটনা পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের দোনাচক গ্রামে। উজ্জ্বল ভৌমিক নামে ওই যুবক মঙ্গলবার নিজেই রামচক গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে ঘটনার কথা জানান।

উজ্জ্বল জানিয়েছেন, তিনি বার্ধক্য ভাতা পেতে আবেদন করেননি। তাঁর বাবা প্রভাত রাজ্য সরকারের এক দফতরের আধিকারিক ছিলেন। তিনিও বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার যোগ্য নন। তবুও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় দু’বছর ধরে বার্ধক্য ভাতার এক হাজার টাকা ঢুকছিল।

যুবকের দাবি, সম্প্রতি এলাকায় একটি ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গিয়ে টাকা তুলে ছিলেন। এর পর ওই ব্যাঙ্কের শাখা অফিসে গিয়ে পাসবই আপডেট করতে গিয়ে ভাতা প্রাপ্তির বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে ঘটনার কথা জানান। গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ তাঁকে ব্লক প্রশাসনের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বুধবার উজ্জ্বল ময়না ব্লকের বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন। তাঁকে প্রশাসনের তরফে ঘটনার বিষয়ে জানিয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

ঘটনাচক্রে এ দিনই অন্নপূর্ণা যোজনার দ্বিতীয় দফার উপভোক্তাদের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে উপভোক্তা হিসেবে পুরুষেরাও ছিলেন বলে অভিযোগ করেন। এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

বুধবার উজ্জ্বল বলেন, ‘‘আমি সম্প্রতি এলাকায় ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে টাকা তুলতে গিয়েছিলাম। এক হাজার টাকা তুলেছিলাম। গত ১৫ জুন ব্যাঙ্কের শাখা অফিসে পাসবই আপডেট করতে গিয়েছিলাম। সেখানেই জানানো হয়, আমার ব্যাঙ্ক আকাউন্টে গত প্রায় দু’বছর ধরে প্রতি মাসে বার্ধক্য ভাতার এক হাজার টাকা করে জমা হয়েছে।’’

কিন্তু প্রায় দু’বছর ধরে তিনি বার্ধক্য ভাতা প্রাপ্তির বিষয়টি বুঝতে পারেননি? উজ্জ্বল বলেন, ‘‘আমি 'কৃষক বন্ধু' ও 'পিএম কিষাণ সম্মান নিধি’র প্রকল্পের টাকা পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম ওই প্রকল্পের টাকা জমা পড়েছে। এটা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হতে পারে। আমার অজান্তেই এই ঘটনা ঘটেছে। আমি চাই বার্ধক্য ভাতার উপভোক্তা থেকে আমার নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। বার্ধক্য ভাতার পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি এই ভাতা পান।’’

স্থানীয় বিজেপির বুথ সভাপতি তরুণ ভৌমিক বলেন, ‘‘ওই যুবক কী ভাবে এতদিন ধরে বার্ধক্য ভাতার টাকা পাচ্ছেন তা নিয়ে তদন্ত করা হোক। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করতে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিক।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন