সংক্রমিতদের বাড়িতে ‘স্টিকার’ পুরসভার
BJP

BJP-TMC: বাকচায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী, অভিযুক্ত বিজেপি

অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহত কনককে উদ্ধার করে ময়না ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে। পরে রাতে তাঁকে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২১ ০৬:৫৭
Share:

প্রতীকী ছবি।

বিধানসভা ভোট মিটে গেলেও জেলার রাজনৈতিক হিংসা থামার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। গত দিন পনেরোর মধ্যে ভগবানপুরে দুই বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। এ বার ময়লা ব্লকের বাকচায় লাঠি, বোমা নিয়ে এক তৃণমূল কর্মীর উপরে হামলার ঘটনায় ঘটল। খুনের ঘটনায় অভিযোগ তির উঠেছে তৃণমূলের দিকে। দু’টি ঘটনায় পুলিশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা-কণীকে গ্রেফতারও করেছে। এ বার হামলার ঘটনায় কাঠগড়ায় বিজেপি। বিজেপি হামলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘটনায় জড়িতদের ধরতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই অশান্ত ময়না ব্লকের বাকচা। কয়েকদিন আগেই ভগবানপুর-১ ব্লকের মহম্মদপুরে বিজেপি নেতা চন্দন মাইতিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে তৃণমূলের ৩৭ জন নেতা-কর্মীদের নামে দায়ের হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে বাকচা এলাকার ১১ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীর নাম ছিল। ঘটনার কয়েকদিন পরেই বাকচায় ৩৫টি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এনিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপান উতোর চলছিলই। তার মধ্যেই শনিবার রাতে বাকচায় এক তৃণমূল কর্মীর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাকচা গ্রামের তরুণ বুথের বাসিন্দা ভেড়ি ব্যবসায়ী কনক ভঞ্জ ওরফে পণ্ডিত এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির কিছুটা দূরেই বাকচা বেসিক বাজারে একটি চায়ের দোকানের সামনে বসে খাচ্ছিলেন কনক । রাত ৮ টা নাগাদ একদল ব্যক্তি ওই দোকানের সামনে এসে আচমকা কনককে মারধর শুরু করে ও তাঁর মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। আহত কনককে জোর করে পাশের গোঁড়ামহল গ্রামের একটি মন্দিরের সামনে নিয়ে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীরা বাজারে বোমাবাজি করে বলেও অভিযোগ। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় । তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা ময়নার থানার পুলিশকে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহত কনককে উদ্ধার করে ময়না ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে। পরে রাতে তাঁকে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

ময়না ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুব্রত মালাকারের অভিযোগ, ‘‘বাকচায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সন্ত্রাস চালিয়ে বাসিন্দাদের ভয় দেখাচ্ছে। আমাদের দলের কর্মসূচি যাতে না হতে পারে সেজন্য কর্মী-সমর্থকদের উপর আক্রমণ করছে। শনিবার রাতে দলের এক কর্মীর উপর আক্রমণ হয়েছে। হামলায় জড়িত বিজেপি কর্মীরা। এবিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতারের দাবি করা হয়েছে।’’

Advertisement

বিজেপির জেলা (তমলুক) সহ-সভাপতি আশিস মণ্ডলের পাল্টা দাবি, ‘‘বাকচায় তৃণমূলের জনসমর্থন নেই। গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের লোকজন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে তৃণমূলের পতাকা বাঁধছিল। এনিয়ে তৃণমূলের কর্মীদের নিজেদের মধ্যে কোন্দল বাধে। তার জেরেই শনিবার রাতে ওই তৃণমূল কর্মীকে তার দলের লোকজনরাই মারধর করে। ঘটনার সাথে আমাদের দলের কেউ জড়িত নয়। নিজেদের গোষ্ঠীকোন্দল ঢাকা দিতেই তৃণমূল আমাদের দলের কর্মীদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করছে।’’

তমলুকের এসডিপিও অতীশ বিশ্বাস বলেন, ‘‘বাকচায় এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ আসায় পুলিশ শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে তদন্ত শুরু হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement