—প্রতীকী ছবি
১০ দিনের লড়াইয়ের সমাপ্তি। মারা গেলেন তৃণমূলের কাউন্সিলরের স্বামীর চড়ে আহত হলদিয়ার বাসিন্দা তপন মালি (৫৬)। রবিবার রাতে কলকাতার হাসপাতালে মৃত্যুর পরে সোমবার তাঁর দেহ পৌঁছয় বাড়িতে। আর তপনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে বিজেপি নেতাকে মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সূত্রপাত ৯ জানুয়ারি। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই দিন হলদিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিবেদিতা নগরে স্থানীয় কাউন্সিলর পম্পা প্রধানের স্বামী উত্তমের সঙ্গে তপনের বচসা হয়েছিল। সে সময় উত্তম প্রধান তপনকে চড় মারেন বলে অভিযোগ। এলাকায় বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত তপন ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। তারপর থেকেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানেই রবিবার রাতে তপনের
মৃত্যু হয়।
চড় মারার পরদিন থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরগরম হয় হলদিয়ার রাজনীতি। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিজেপি এবং তৃণমূলের পক্ষ থেকে মিছিল করা হয়। বিজেপি সূত্রের খবর, তপনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরে বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁর বাড়িতে সোমবার রাতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে যাওয়া হন দলের নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিজেপি সমর্থকেরা দাঁড়িয়েছিলেন। অবিযোগ, সেই সময় বেশ কয়েক জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী তাঁদের উপরে হামলা চালায়।
দুষ্কৃতী হামলায় গুরুতর আহত হন হলদিয়া নগর মণ্ডল-৩ এর সভাপতি কার্তিক দাস। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় হলদিয়া মহাকুমা হাসপাতালে। কার্তিকের মাথায় এবং পা’য়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। কার্তিককে পরে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে দেখতে জেলা হাসপাতালে যান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে একজন বিজেপি কর্মীকে মেরে ফেলল। এরপর আবার দুষ্কৃতীদের দিয়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নবারুণ নায়েক বলেন, ‘‘তৃণমূলের আজিজুর রহমান, শেখ আজগর আলি, ও দেবপ্রসাদ মণ্ডলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ফল ওঁদের ভুগতে হবে।’’ অভিযোগ উড়িয়ে হলদিয়া শহর তৃণমূল সভাপতি সুধাংশুমণ্ডল বলেন, ‘‘যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। তৃণমূল কোনও ভাবেই অসামাজিক কাজে যুক্ত থাকে না।’’
এদিকে, তপনকে চড় মারার ঘটনায় তাঁর পরিবার আগেই উত্তমের বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছিল। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত কাউন্সিলারের স্বামী উত্তমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আপাতত সে জেল হেফাজতে রয়েছে।