প্রতীকী ছবি।
একে অতিমারি। তায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে-পরের ব্যস্ততা। এই আবহে পুরনো মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারি অভিযানে ভাটা পড়েছিল। তবে গত জুলাই মাস থেকেই ফের তৎপর পুলিশ। পুরনো মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার যেমন বেড়েছে, তেমনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেওয়ার জানানোর তৎপরতাও বেড়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে এঁদের একটা বড় অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী।
আগাম জামিন নেওয়ার প্রবণতা বেশি বিজেপি নেতা-কর্মীদেরই। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বারবারই দলীয় কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ করছেন। প্রসঙ্গক্রমে তৃণমূলের শাসনকে ‘তালিবানি রাজত্ব’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। ময়নার বাকচা-সহ বিভিন্ন এলাকায় পুরনো মামলায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা-কর্মীদের একাংশ ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। ধৃতদের মধ্যে বিজেপি-র দুই মণ্ডল সভাপতি-সহ একাধিক বুথ সভাপতি রয়েছে। এর পরেই বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা বিজেপি নেতা-কর্মীদের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। ক’দিন আগে বাকচা-সহ বিভিন্ন এলাকার ১৫ জন বিজেপি নেতা-কর্মী তমলুক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। করোনা বিধি ভঙ্গ করে ত্রাণ বিলিতে অভিযুক্ত ময়নার ১৮জন বিজেপি নেতা-কর্মীর মধ্যে ৯জন তমলুক আদালতে আত্মসমপর্ণ করে জামিন নিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার।
পুলিশ সূত্রের খবর, অশান্তি রুখতে আগাম সতর্কতা হিসেবে প্রতিটি নির্বাচনের মুখে যাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা আছে, তাঁদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগেও পুলিশের তরফে সেই অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু এরপর সভা-মিছিলে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যস্ততা, অন্য দিকে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পুলিশি অভিযানে ভাটা পড়ে । মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ভোটের ফল বেরোয়। ক্রমে করোনাতেও রাশ পড়ে। তারপরই পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলার প্রতি থানাতেই বিভিন্ন মামলায় ‘ওয়ারেন্ট’ বা গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্রেফতারের সংখ্যাও বেড়েছে।
বিজেপির জেলা নেতৃত্বের অবশ্য অভিযোগ, ময়না বিধানসভায় তৃণমূলকে হারিয়ে এ বার পদ্ম-প্রার্থী জিতেছেন। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল তা মানতে পারছেনা। তাই তৃণমূলের বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ময়নার বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে এবং তাঁদের গ্রেফতার করছে। বিজেপি-র জেলা (তমলুক) সহ-সভাপতি আশিস মণ্ডলের অভিযোগ, ‘‘গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার নামে ময়না থানার পুলিশ কেবলমাত্র বিজেপি নেতা-কর্মীদেরই গ্রেফতার করছে। পুলিশের এমন আচরণ পক্ষপাতমূলক।’’
যদিও পক্ষপাতিত্বের ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবপ্রসাদ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির অভিযোগ ঠিক নয়। প্রশাসনের কোনও কাজে দলীয় ভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়নি।’’ আর জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলছেন, ‘‘প্রতিটি থানা এলাকাতেই এখন গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক কিছুর যোগ নেই।’’