ফাইল চিত্র
ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরা দু’জনকে গৃহ-পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও আরেকজনের হদিস মিলল না।
শুক্রবার দুপুরে খড়্গপুর স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম তোলপাড় হয় বেঙ্গালুরু-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস সন্দেহভাজন এক করোনা আক্রান্তের খোঁজে। তবে শেষপর্যন্ত তাঁর খোঁজ মেলেনি। রেলের কাছে খবর ছিল, ওই ট্রেনের সাধারণ কামরায় অসমের রঙ্গিয়া ডিভিশন এলাকার এক যুবক সফর করছেন। বেলা পৌনে দু’টো নাগাদ ওই ট্রেনটি পৌঁছলে তার তিনটি সাধারণ কামরা থেকে যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয়। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে তল্লাশি চলে। ওই যুবকের যে ফোন নম্বর রেলের কাছে ছিল তাতে ফোন করলেও কেউ ধরেননি। ওই যুবকের ছবির সঙ্গে যাত্রীদের মুখ মিলিয়ে খোঁজ শুরু হয়। হ্যান্ড মাইকে ওই যুবকের নাম ধরে ডাকা হলেও কাজ হয়নি। আড়াইটে নাগাদ কামরাগুলি পরিষ্কার করে যাত্রীদের তুলে ট্রেন ছেড়ে দেওয়া হয়। খড়্গপুরের স্টেশন মাস্টার দেবেন্দ্রকুমার পণ্ডা বলেন, “কন্ট্রোল থেকে ছবি-সহ বিস্তারিত দিয়ে ওই যাত্রীকে খোঁজার কথা বলা হয়েছিল।”
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমের রঙ্গিয়া ডিভিশন থেকেই জানানো হয় যে সফররত ওই যুবক বা তাঁর পরিজনদের কেউ করোনায় আক্রান্ত বলে অনুমান। প্রথমে বালেশ্বর তারপরে খড়্গপুরে ট্রেন থামিয়ে খোঁজ করা হয়। খড়্গপুর রেলের সিনিয়ার ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার আদিত্য চৌধুরী বলেন, “ওই যুবককে খোঁজার চেষ্টা হলেও পাওয়া যায়নি।”
খড়্গপুর স্টেশনে খোঁজ পাওয়া না গেলেও খড়্গপুরের হিজলি স্টেশন থেকে চেন্নাই থেকে ফেরা রেলশহরের এক যুবককে গৃহ পর্যবেক্ষণে পাঠানো হয়েছে শুক্রবার। খড়্গপুরের বাসিন্দা ওই যুবক কর্মসূত্রে চেন্নাইতে থাকেন। এ দিন স্টেশনের থার্মাল স্ক্যানারে দেখা যায় যে তাঁর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে সামান্য বেশি রয়েছে। তারপরেই তাঁকে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর শরীরে করোনার কোনও উপসর্গ দেখা না গেলেও তাঁকে গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়। হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, “ওই যুবকের করোনার উপসর্গ নেই। তিনি যেহেতু ভিনরাজ্য থেকে এসেছেন তাই গৃহ পর্যবেক্ষণে পাঠানো হয়েছে।’’
বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক তরুণী দুবাই থেকে ঝাড়গ্রামে ফেরেন। তাঁকেও গৃহ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি দুবাই থেকে বিমানে মুম্বইয়ে আসেন। তারপরে মুম্বই থেকে ট্রেনে চেপে বৃহস্পতিবার টাটানগরে নামেন। ওই তরুণীকে টাটা থেকে আনতে যান তাঁর মা ও বোন। সেই খবর প্রশাসনের কাছে আগাম পৌঁছে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটা নাগাদ টাটা-খড়গপুর লোকালে মা ও বোনের সঙ্গে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে নামেন ওই তরুণী। ঝাড়গ্রামের মহকুমাশাসক (সদর) তথা পুর-প্রশাসক সুবর্ণ রায়ের নেতৃত্বে স্টেশনে মেডিক্যাল টিম আগে থেকেই হাজির ছিল সেখানে। পরে ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে করোনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় ওই তরুণী এবং তার মা-বোনকে স্টেশনেই পরীক্ষা করে গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দেন।
ঝাড়গ্রামের সিএমওএইচ প্রকাশ মৃধা বলেন, ‘‘ওই তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পরিজনদের পরীক্ষা করে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। সতর্কতা হিসেবে গৃহ নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে।’’ ঝাড়গ্রামের পুর-প্রশাসক তথা মহকুমাশাসক (সদর) সুবর্ণ রায়ের আশ্বাস, ‘‘অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’’