নয়াগ্রামে পাতকুয়ো থেকে তোলা হচ্ছে হাতির শাবকের দেহ। — নিজস্ব চিত্র।
পাতকুয়োতে পড়ে গিয়েছিল হস্তি শাবক। শুঁড় বাড়িয়েও ছুঁতে পারেনি মা-হাতি। কুয়োর ধারেই অপেক্ষা শুরু করে মা। বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয় শাবকটির। ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম ব্লকের বড়খাঁকড়ি অঞ্চলের বাছুরখোঁয়াড় গ্রামের ঘটনা।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তপোবন জঙ্গলের দোরখুলি দিক থেকে প্রায় ২৫টি হাতির একটি দল বুধবার গভীর রাতে লোকালয়ে ঢোকে। রাত প্রায় ৩টে নাগাদ ঘটে বিপত্তি। দু’-তিন বছরের একটি শাবক পড়ে যায় কুয়োর মধ্যে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান, হাতির দলটি কুয়োর চারপাশে ঘোরাফেরা করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় চাঁদাবিলা রেঞ্জের প্রতাপপুর বিটের বনকর্মীরা। শুরু হয় উদ্ধার কাজ।
প্রথমে মা হাতিটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বন দফতরের কর্মীরা। পরে জেসিবি এনে পাতকুয়োর একপাশ কেটে শাবকটিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়। উদ্ধারকারীরা তাকে পাতকুয়ো থেকে বার করলেও তখন আর তার শরীরে প্রাণ ছিল না। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছিল। শাবকটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য সর্বতো ভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, কুয়োর ধার থেকে মাটি ভেঙে ভিতরে পড়ায় তার শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হচ্ছিল। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’’