মত্তরাই ত্রাস, রাতে বন্ধ মহিলা থানাও

মঙ্গলবার দুপুর থেকেও কার্যত তালাবন্ধ থাকতে দেখা গিয়েছে কাঁথি মহিলা থানা।

Advertisement

কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২২ ০৮:৩৩
Share:

নিজস্ব চিত্র।

রাতের বেলা তো কথাই নেই! দিনের বেলাতেই মহিলা থানায় ‘দেখা মেলে না’ পুলিশকর্মীর। থানায় কোনও কাজে গিয়ে গেট তালাবন্ধ থাকতে দেখেছেন এমন অভিযোগও রয়েছে কাঁথি শহরের অনেক বাসিন্দার।ফলে থানায় গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে অভিযোগকারীদের। কাঁথি মহিলা থানার গেটে তালা বন্ধ অবস্থার ছবি দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু দিন ধরেই।

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুর থেকেও কার্যত তালাবন্ধ থাকতে দেখা গিয়েছে কাঁথি মহিলা থানা। নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে গিয়ে থানা বন্ধ থাকায় ফিরে গিয়েছেন অনেকে।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ষণ থেকে মহিলাদের উপরে নির্যাতনের ঘটনা কম নয়। কাঁথি শহরে সাম্প্রতিক কালে সেরকম বড় কোনও ঘটনা না ঘটলেও মহিলাদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও যে একেবারেই নিরাপদ তা বলা যায় না। এই নিয়ে নানা অভিযোগও রয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির। তবে নারী নির্যাতন, নাবালিকা নিখোঁজ কিংবা নাবালিকা বিয়ের ঘটনায় মহিলা থানার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল ক্ষমতায় এসেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রথম কাঁথিতে মহিলা থানা চালু করে। উদ্বোধন করেছিলেন সাংসদ শিশির অধিকারী। মহিলাদের নানা অভাব-অভিযোগ জানানোর জন্য কাঁথি থানার নির্মীয়মাণ নতুন ভবনের পাশেই পৃথকভাবে এই থানা চালু হয়েছিল। যদিও বেশ কিছুদিন ধরেই ওই মহিলা থানায় দুপুরে কয়েক ঘণ্টা এবং রাত দশটার পরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে শহরবাসীর অভিযোগ। এ দিন মহিলা থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওসি ছুটিতে রয়েছেন। বাকি আসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার তিনজন আধিকারিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে মাঝেমধ্যেই কাঁথি থানা কাজে নিয়ে গিয়েছে। আর একজন তমলুকে জেলা পুলিশের সদর দফতরে গিয়েছেন। এমনকী মহিলা থানায় যে পাঁচ জন কনস্টেবল থাকেন তাঁরাও আপাতত মাধ্যমিক পরীক্ষার ডিউটিতে ব্যস্ত। একমাত্র মহিলা হোমগার্ড থানা আগলে বসে রয়েছেন। তবে শুধু পরীক্ষার মরসুম নয়, সারা বছরই দুপুরের বেশ কিছুক্ষণ সময় এবং রাত দশটার পরেই ভিতর থেকে থানার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অনেকের অভিযোগ। মহিলা থানার এক কনস্টেবল জানান, দুপুরে এবং রাতে থানা চত্বরে লোকজন কমে যায়। এমনকি পুলিশ কর্মীরাও তখন কম সংখ্যায় থাকে। সে সময় অনেকেই মদ্যপ অবস্থায় থানায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। ঝামেলা এড়াতে তাই থানার গেট বন্ধ রাখা হয়। তবে তাঁর দাবি, কেউ কোনও বিষয়ে অভিযোগ জানাতে এলে গেট খুলে দেওয়া হয়।

মাস দুয়েক আগে পারিবারিক অশান্তির কারণে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রাতেই তাঁকে ব্যক্তিগত বন্ড সই করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় কোনও পুলিশ আধিকারিক থানায় ছিলেন না। মিনিট দশেক বাদে হন্তদন্ত হয়ে থানায় পৌঁছন একজন এএসআই। তাঁর যুক্তি ছিল, ‘‘থাকা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকি। সারাদিনের পরিশ্রমের পর বাড়িতে খানিক বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। তবে রাত বিরেতে কোনও সমস্যার কথা জানানো হলে তৎক্ষণাৎ থানায় চলে আসি।’’

Advertisement

মহিলা থানার পাশেই কাঁথি থানা। সেখানকার এক পুলিশ কর্তা বলেন, ‘‘অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কোনও ঘটনায় অভিযুক্ত মহিলাকে দিনের বেলায় গ্রেফতার করে আনা হয়। রাতে পর্যাপ্ত মহিলা পুলিশ থাকে না। তা ছাড়া সে সময় অনেকেই বাড়িতে ফিরে যান। তাই তাঁদের ডেকে নিয়ে এসে আসামি ধরতে যাওয়া অনেক সমস্যার।’’

যদিও এ ধরনের অভিযোগ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ)মানব কুমার সিংঘল বলেন, ‘‘মহিলা থানা সর্বক্ষণ খুলে রাখাই নিয়ম। এক্ষেত্রে কোনও কোনও সময় কেন বন্ধ রাখা হয় সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement