বাঁশ ফেলে অবরোধ। — নিজস্ব চিত্র
বালি বোঝাই ভারী লরি চলাচলের ফলে রাস্তার দফারফা। খন্দপথের ঝক্কি এড়াতে রুটের সব বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনিক মহলে অজস্রবার অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। তাই বাসিন্দারা বাঁশের ব্যারিকেড করে পথ আটকালেন, চলল বিক্ষোভ।
রবিবার লালগড় ব্লকের রামগড় অঞ্চলের মুড়ার গ্রামের দুর্গামন্দির চকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টার অবরোধ চলে। এতে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খাসজঙ্গল সিদো-কানহু চক থেকে মুড়ার হয়ে বাঁকুড়াগামী রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড় ব্লকের রামগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার হচ্ছে না। প্রতিদিন গড়ে আড়াইশো-তিনশো বালি বোঝাই ভারী লরি চলাচলে রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। ওই রাস্তা দিয়ে আগে দিনে বাঁকুড়াগামী ৮ জোড়া বাস যাতায়াত করত। বেহাল রাস্তার জন্য তিন মাস হল বাসগুলি ওই রুটে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, চরম সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। মাস দু’য়েক আগেও রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বাসিন্দারা পথ অবরোধ করেছিলেন। তখন প্রশাসনের তরফে সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি। উল্টে রাস্তা আরও বেহাল হয়েছে।
এ দিন সকালে স্থানীয় মুড়ার, গোপীনাথপুর, লোধাশোল, ভেঁপুয়া গ্রামের বাসিন্দাদের ওই অবরোধে আটকে পড়ে কয়েকশো বালি বোঝাই লরি। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে বাসিন্দারা সাফ জানিয়ে দেন, উপযুক্ত আশ্বাস ছাড়া তাঁরা অবরোধ তুলবেন না। অবশেষে লালগড়ের বিডিও জ্যোতিন্দ্রনাথ বৈরাগী টেলিফোনে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিডিও জানান, তিনি নিজে রাস্তাটি পরিদর্শন করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবেন। ওই রাস্তায় ভারী লরি চলাচল বন্ধ করা হবে বলে আশ্বাস দেয় পুলিশ। অবিলম্বে বাস চালানোর জন্য প্রশাসনিকস্তরে পদক্ষেপ করারও আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর দুপুর ১ টা নাগাদ অবরোধ তোলা হয়।