মন্দিরের শহরে অবহেলায় জীর্ণ মন্দিরই

আনন্দবাজারের পাঠকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন চন্দ্রকোনার পুরপ্রধান অরূপ ধাড়া। শহরবাসীর নানা দাবি, প্রাপ্তি-প্রত্যাশার বিষয় ওঠে আলোচনায়। সঞ্চালনায় ছিলেন অভিজিৎ চক্রবর্তী। রইল বাছাই প্রশ্নোত্তর।আনন্দবাজারের পাঠকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন চন্দ্রকোনার পুরপ্রধান অরূপ ধাড়া। শহরবাসীর নানা দাবি, প্রাপ্তি-প্রত্যাশার বিষয় ওঠে আলোচনায়। সঞ্চালনায় ছিলেন অভিজিৎ চক্রবর্তী। রইল বাছাই প্রশ্নোত্তর।

Advertisement
শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৬ ০০:৫১
Share:

চন্দ্রকোনা পুরসভার চেয়ারম্যানের মুখোমুখি পাঠকেরা।

চন্দ্রকোনার গোঁসাইবাজার, মুণ্ডুমালা, গাছশিতলা, গাজিপুর প্রভৃতি এলাকা আবর্জনায় ভর্তি। সাফাইকর্মীরা নিয়মিত বাড়ি-বাড়ি আসেন না। অস্থায়ী ভ্যাটও নেই। শহরে মহিলা ও শিশুদের পার্কও নেই। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

Advertisement

শ্রাবণী রায়, (গৃহবধূ), ১ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: পুরসভার তরফে সাফাইকর্মীরা নিয়মিত এলাকায় গিয়ে আবর্জনা নিয়ে আসেন। প্রতি মহল্লায় অস্থায়ী ভ্যাটও রয়েছে। আরও কিছু ভ্যাট বসানো হবে। এক মাসের মধ্যে ১২টি ওয়ার্ডের প্রতি বাড়িতে সাফাইকর্মীরা পৌঁছবেন। শহরে পার্ক তৈরি হবে।

Advertisement

শহরের মূল সড়ক-সহ ঠাকুরবাড়ি বাড়ি বাজার, অযোধ্যা প্রভৃতি রাস্তায় যত্রতত্র ইমরাতি মালপত্র ফেলা হচ্ছে। একেই রাস্তা অপরিসর সঙ্গে ইট, বালি, চিপস পড়ে থাকায় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।

কৃষ্ণগোপাল মুখোপাধ্যায়, (শিক্ষক), ২ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: শহরের মূল সড়ক-সহ অনান্য রাস্তায় বালি,ইট সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মাইকে প্রচার চালানো হয়েছিল। এর জন্য শহরের মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। পুর-প্রশাসন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান হবে।

চন্দ্রকোনা ব্লকের সদর শহর। বহু মানুষ প্রতিদিন নানা কাজে শহরে আসেন। কিন্তু শহরের প্রতি ওয়ার্ডে মহিলাদের শৌচাগারও নেই। নিরাপত্তারও অভাব।

নার্গিস খাতুন, (কলেজ ছাত্রী), ১২ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: এমনিতেই জনবহুল বাজারগুলিতে মহিলাদের শৌচাগার রয়েছে। দ্রুত আরও চারটি তৈরি হবে। নিরাপত্তা বিষয়টি নিয়ে আমরা পুলিশের সঙ্গে আলোচনা আগেই করেছি। এখন নিয়মিত সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশি টহল চলে।

মন্দিরের শহর বলে পরিচিত চন্দ্রকোনা। শতাধিক পুরানো মন্দির রয়েছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে সবই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদি কে শহরে নাটক, থিয়েটারের বেশ নামডাক ছিল। এখন উদ্যোগ এবং আর্থিক কারণে শহরে নাট্যচর্চা অবলুপ্তির পথে। পুর-এলাকায় শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কমিউনিটি হল তৈরি হলে ভাল হয়।

তারাপদ বিশুই, (সাহিত্যিক), ৩ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: বেশ কিছু মন্দিরকে সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছি আমরা। এলাকার বিধায়ক ও সাংসদকে সাহায্য করার জন্য আবেদনও করেছি। আগে নাটক,থিয়েটার,যাত্রা রমরমিয়ে চলত। বহু বছর বন্ধ থাকার পর ফের শহরে তা চালু হয়েছে। দু’টি মুক্তমঞ্চ এবং টাউন হলটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার জন্য টেন্ডার হয়েছে।

শহরে বহু মেধাবী দু:স্থ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। ন্যূনতম খরচ নিয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষা এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যদি পুরসভা একটি কোচিং সেন্টার খোলে অনেকেই উপকৃত হবেন।

অরিজিৎ ঘোষ, (ছাত্র), ১১ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: ভাল প্রস্তাব। এটা আগে আমরা ভাবিনি। দ্রুত কাউন্সিরলদের নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেব।

ধ্বংসের পথে চন্দ্রকোনায় বড় অযোধ্যার রাজবাড়ি।

শহরের সৌন্দর্যায়ন এবং পানীয় জলের স্থায়ী সমাধানের জন্য পুরসভা কী চিন্তাভাবনা করছে?

শিবপ্রসাদ নন্দী, (শিক্ষক), ৯ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: শহরের বিভিন্ন রাস্তার ধারে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানোর কাজ চলছে। পুকুর পাড়েও গাছ লাগিয়ে পাকা ঘাট তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও কালীপুজোর পরই শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ত্রিফলা আলো ও এলইডি আলো বসানো হবে। এখন প্রতি ওয়ার্ডেই পানীয় জলের কল বসানো হয়েছে। জলের সমস্যা অনেকটাই মিটে গিয়েছে।

শহরের ঢোকার মূল সড়কটি সম্প্রসারণ হলে রাস্তার দু’ধারে ছোট-ছোট ব্যবসায়ীদের উঠে যেতে হবে। এছাড়াও শহরের একাধিক মার্কেট কমপ্লেক্স রয়েছে। তার মধ্যে অধিকাংশ গুদাম পড়ে রয়েছে। পুরসভা যদি নতুন শপিং কমপ্লেক্স করে এবং ঘর নিলে গুদাম করা যাবে না নিশ্চিত করে ভাল হয়।

স্বর্ণকমল দে, (ব্যবসায়ী), ৫ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: এমনিতেই আমরা দু’টি শপিং কমপ্লেক্স তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছি। দ্রুত কাজ শুরু হবে। পুরনো মার্কেট কমপ্লেক্সগুলিতে যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা দোকান না করে গুদাম হিসাবে ব্যবহার করছেন-তাঁদেরও নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

পুরসভার উদ্যোগে সাধারণ মানুষের জন্য নিখরচায় আইনি সচেতনতা কেন্দ্র গড়ার জন্য পুরসভার কোনও ভাবনা আছে?

সমীর ঘোষ (আইনজীবী), ২ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: এটাও ভাল প্রশ্ন। বহু মানুষ আর্থিক অভাবে আইনি পরিষেবা পাচ্ছেন না। আমরা ব্যবস্থা নেব যাতে শহরের আইনজীবীরাও এগিয়ে আসেন।

এখানে পুরসভার উদ্যোগে যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি চলছে, সেগুলিতে নিয়মিত চিকিৎসক যাতে আসেন এবং আরও চিকিৎসক বাড়ানো হলে ভাল হয়। প্রতি ওয়ার্ডে না হলেও জনবহুল এলাকায় আরও স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হলে সাধারণ মানুষ
উপকৃত হবেন।

উত্তম দত্ত (চিকিৎসক), ৮ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: শহরের চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুরসভার উদ্যোগে চলছে। যাতে নিয়মিত চিকিৎসক আসেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। আরও দু’টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র দ্রুত খোলা হবে।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলি এবং রাস্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কোনও ভাবনা রয়েছে পুরসভার?

প্রশান্ত রানা (কলেজ শিক্ষক), ৩ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: কিছু এলাকা আমরা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছি। পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে পুরসভার নিজস্ব তহবিলের টাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে।

কৌশিক সাঁতরার তোলা ছবি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement