Haldia

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি, প্রশ্ন

মঙ্গলবার কাকভোরে হলদিয়ার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিরঞ্জীবপুরে পেট্রোকেমিক্যালসের ন্যাপথার পাইপলাইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৮:৩৭
Share:

পাশাপাশি রয়েছে একাধিক রাসায়নিক কারখানা। বন্দর থেকে গিয়েছে বিভিন্ন দাহ্য পদার্থবাহী পাইপলাইন। শিল্পশহর হলদিয়ায় এমন সব ‘হাই সিকিউরিটি জ়োন’ এলাকায় গড়ে উঠেছে বসতি। ঝাঁ-চকচকে রাস্তা থেকে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গিয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। বাসিন্দারা কেউ দাবি করছেন, অন্যের কাছ থেকে বাড়ি কিনে বসবাস করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ফাঁকা জায়গা দেখে থাকতে শুরু করেছেন। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে, কারখানা সংলগ্ন এলাকায় এই সব বেআইনি বসতিগুলিতে যে কতটা প্রভাব পড়তে পারে, তা দেখা গিয়েছে মঙ্গলবার। তাই এই বেনিয়মের বিরুদ্ধে কি প্রশাসন পদক্ষেপ করবে এ বার, উঠছে সেই প্রশ্ন।

মঙ্গলবার কাকভোরে হলদিয়ার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিরঞ্জীবপুরে পেট্রোকেমিক্যালসের ন্যাপথার পাইপলাইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জন মারা গিয়েছেন। বেশ কয়েকজন আহত কলকাতায় চিকিৎসাধীন। এঁরা সকলে শান্তি কলোনির বাসিন্দা। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এবং অন্য একটি রাসায়নিক কারখানার যে পাইপলাইন গিয়েছে, তার ধারে গড়ে উঠেছে এই বেআইনি কলোনি। আগুনের যে স্রোত মঙ্গলবার বইছে, তাতে ছাই হয়েছে কলোনির বহু ঘর।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা না গেলেও কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলাতি এবং প্রশাসনের ভূমিকায় সরব বাসিন্দারা। তাঁরা মনে করাচ্ছেন, শান্তি কলোনির মতো এমন আরও বহু বেআইনি বসতি কারখানাগুলির ‘হাই সিকিউরিটি জ়োনে’ রয়েছে। যেমন, মঙ্গলবারের ঘটনাস্থলের অদূরে ঝিল পাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসতি রয়েছে। রেল এবং কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের জমি দখল করে সেটি তৈরি হয়েছে। অন্তত ৩০০ পরিবারের বাস সেখানে।

এদিকে, পাশেই রয়েছে রাসায়নিক কারখানা। গিয়েছে পাইপলাইন। তবুও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলছে বসবাস। এলাকায় তৈরি হয়ে গিয়েছে পাকা রাস্তাও। পূর্ণিমা ভৌমিক নামে এক মহিলার কথায়, ‘‘যে ঘরে আমরা থাকি, সেটা আগে অন্য কেউ থাকতেন। ওরা পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বাড়িটা বিক্রি করে দিয়ে গিয়েছেন।’’ শঙ্কর জানা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘‘আগে ভাড়া বাড়িতে থাকতাম। এখানে ফাঁকা দেখে চলে এসেছি। বাড়ি তৈরি করেছি। পুরসভায় নিয়মিত কর জমা দিচ্ছি। সেই নথি দেখিয়ে বিদ্যুতের সংযোগ পেয়েছি।’’

উল্লেখ্য, রাসায়নিক কারখানা এবং পাইপলাইন গিয়েছে, এরকম এলাকায় বসতি নিষিদ্ধ। অথচ হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে প্রশাসন এ নিয়ে কাউকে কোনও নিষেধ করেনি বলে দাবি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দখল করে গড়ে ওঠা বসতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আর দুর্ঘটনা হলে দায় পড়বে প্রশাসনের উপরে। তা হলে প্রশাসন কেন আগে ভাবে পদক্ষেপ করছে না? পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের জবাব, ‘‘হলদিয়ার মহকুমাশাসককে তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে।’’

এমন দখলদারির পিছনে অবশ্য তৃণমূল এবং বামেদের দায়ী করে হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ বিজলী বলেন, ‘‘বাম আমল থেকে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় ঝুপড়ি গজিয়ে উঠেছে। পরে তাদের প্রশ্রয় দিয়েছে তৃণমূল।’’ এ বিষয়ে শিল্পাঞ্চলের কোনও তৃণমূল নেতা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পরিতোষ পট্টনায়ক বলেন, ‘‘হলদিয়ায় বারবার কারখানার গাফিলাতির জন্য দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করে গরীবদের হেনস্থা করা হয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন