—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
মিটেছে রথযাত্রা কর্মসূচি। এখন পালা সেই কর্মসূচির কাঁটাছেড়া। পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির দুই সাংগঠনিক জেলা— কাঁথি ও তমলুকে দলের ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট রাজ্য নেতৃত্বকে জমা দিচ্ছে জেলার গেরুয়া শিবির। রিপোর্টে মেদিনীপুর বিভাগের মধ্যে কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় পরিবর্তনের রথ সবচেয়ে ভাল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১ মার্চ পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় মেদিনীপুর বিভাগের রথযাত্রার উদ্বোধন করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত ৮ মার্চ রথ পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে আসে। এরপর এগরা, পটাশপুর, ভগবানপুর, খেজুরি, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, মহিষাদল, হলদিয়া, নন্দকুমার, তমলুক শহর হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হরিদাসপুর বাজারে যায়।
জেলার বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় রথ পরিক্রমার সময়ে বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় পথসভা হয়েছিল। এ সব সভায় দলের কর্মী-সমর্থক, সাধারণ মানুষের জমায়েত কেমন হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও কাঁটাছেড়া করছে বিজেপি। সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে রিপোর্ট পাঠাতে হচ্ছে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বকে। রিপোর্ট করতে যাতে সুবিধা হয়, সে জন্য জেলা নেতৃত্ব রথের পরিক্রমা এবং পথসভার ভিডিয়োগ্রাফি করেছেন। এ ছাড়া, এই কর্মসূচির প্রভাব কতটা পড়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলের একট দলও দিল। এই দলের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় লোকজনের জমায়েত গিয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া নিয়েছেন। কর্মসূচির প্রভাব নিয়ে বিজেপির তমলুক ও কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় নেতারা রাজ্যে রিপোর্ট পাঠায়িছেন।
আপাতত কাঁথি এবং তমলুক দুই সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বই তাঁদের রিপোর্ট পাঠিয়েছন। তাতে কাঁথি সাংগঠনিক জেলার কর্মসূচি সবচেয়ে ভাল হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। পরিবর্তন রথযাত্রার দলের জেলা (কাঁথি) আহ্বায়ক পুলককান্তি গুড়িয়া বলেন, ‘‘রথকে স্বাগত জানাতে এবং পথসভায় দলের নেতা-কর্মীর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের প্রচুর উৎসাহ দেখা গিয়েছে। এতে সন্তুষ্ট হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।’’
উল্লেখ্য, আগামী ১৪ মার্চ রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর আসার আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় বিজেপির এই কর্মসূচি কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে বাড়তি নজর রয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের। এই কর্মসূচিতে জেলায় এসেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী থেকে রুদ্রনীল ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পালের মতো রাজ্য নেতৃত্ব। তমলুক সাংগঠনিক জেলার মধ্যে রয়েছে শুভেন্দুর বিধানসভা এলাকা নন্দীগ্রাম। এই সাংগঠনিক জেলায় রথযাত্রা কর্মসূচি প্রসঙ্গে জেলা আহ্বায়ক সুকান্ত চৌধুরী বলেন, ‘‘নন্দীগ্রাম-সহ আমাদের জেলায় রথযাত্রা কর্মসূচি সফল হয়েছে। রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।’’ বিজেপির রথযাত্রাকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক উত্তম বারিক। তিনি বলেন, ‘‘সুপার ফ্লপ হয়েছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে