শনিবারের অনুষ্ঠান মঞ্চে শ্রীকান্ত ও কুনার (চিহ্নিত)। ফাইল চিত্র
সত্যি হল আশঙ্কাই। দেড় মিনিট ‘সংসর্গে’র খেসারত দিতে হল তৃণমূল বিধায়ককে।
বিজেপি সাংসদ তথা দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মেলার মঞ্চে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পরেই শো-কজের মুখে পড়তে হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার তৃণমূল বিধায়ক সমরেশ দাসকে। সেই একই ‘অপরাধে’ এ বার কোপে পড়লেন পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো।
শনিবার এক স্কুলের অনুষ্ঠানে বিজেপি-র ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুনার হেমব্রমের সঙ্গে একই মঞ্চে সঙ্গে একই মঞ্চে মিনিট দেড়েক ছিলেন শ্রীকান্ত। পরিস্থিতি আঁচ করেই সম্ভবত দ্রুত মঞ্চ থেকে নেমে এসেছিলেন তিনি। তবে রেহাই পেলেন না। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর নির্দেশে রবিবার বিকেলে শো-কজ করা হল তাঁকে। শো-কজের মুখে পড়তে হয়েছে তৃণমূলের গোয়ালতোড় ব্লক কার্যকরী সভাপতি শ্যাম শতপথীকেও। সাত দিনের মধ্যে জেলা সভাপতির কাছে শো-কজের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি অজিত মাইতি মানছেন, ‘‘দলের রাজ্য সভাপতির নির্দেশে বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো ও গোয়ালতোড় ব্লকের কার্যকরী সভাপতি শ্যাম শতপথীকে শো-কজ করা হয়েছে। তাঁদের শো- কজের জবাব রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’’
বিধায়ক ও ব্লকের কার্যকরী সভাপতিকে শো-কজের ঘটনায় জেলা তৃণমূলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। আরেক দলের মত, স্কুলের অনুষ্ঠানের মতো সামাজিক মঞ্চে সৌজন্য তো থাকবেই। তা নিয়ে কেন রাজনীতি হবে। শ্রীকান্তর শো-কজের কথা জেনে এগরার বিধায়ক সমরেশের যেমন প্রতিক্রিয়া, ‘‘দল যদি বলে কোনও অনুষ্ঠানে বিজেপির জন প্রতিনিধি বা নেতাদের সঙ্গে থাকা যাবে না, তা হলে মেনে নেব। তবে যা হয়েছে তাতে দল সম্পর্কে ভুল বার্তা যেতে পারে।’’ তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুরের এক জেলা নেতার অবশ্য বক্তব্য, ‘‘দলের নীতি সকলের ক্ষেত্রেই এক হওয়া উচিত। এগরার বিধায়ক ও ব্লক সভাপতিকে একই অভিযোগে শো-কজ করা হলে, শালবনির বিধায়ক ও গোয়ালতোড়ের কার্যকরী সভাপতি রেহাই পাবেন কেন!’’
শনিবার দুপুরে গোয়ালতোড়ের মাকলি অঞ্চলের একটি স্কুলের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে ঝাড়গ্রামের বিজেপি সাংসদ কুনার হেমব্রমের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায় শালবনির তৃণমূল বিধায়ক শ্রীকান্তকে। মঞ্চেই ছিলেন তৃণমূলের ব্লক কার্যকরী সভাপতি শ্যামও। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই শোরগোল পড়ে তৃণমূলের অন্দরে। আত্মপক্ষ সমর্থন করে শ্রীকান্ত শনিবার রাতেই ‘আনন্দবাজার’কে বলেছিলেন, ‘‘আমি জানতাম না মঞ্চে সাংসদ আছেন। তাই মঞ্চে উঠে চেয়ারে বসেছিলাম। কিন্তু ওঁকে দেখে তৎক্ষণাৎ নেমে পড়ি। বড়জোর মিনিট দেড়েক ছিলাম মঞ্চে।’’
রবিবার দিনভর নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন বিধায়ক। গোয়ালতোড়ে এমএসকে -এসএসকে শিক্ষকদের সভা, নয়াবসতে দলীয় সভা, বাঁকিবাঁধে সম্প্রীতি মিছিলে ছিলেন শ্রীকান্ত। সন্ধ্যায় শো-কজের বিষয়টি জেলা সভাপতি অজিত মাইতি ফোন করে জানান তাঁকে। শ্রীকান্ত বলেন, ‘‘জেলা সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে। শো-কজের জবাব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দেব।’’ একই বক্তব্য শ্যামেরও।
আর যাঁর সঙ্গে মঞ্চে দেখা যাওয়ায় এই ‘শাস্তি’ সেই বিজেপি সাংসদ কুনার হেমব্রম বলছেন, ‘‘রাজনীতিতে সৌজন্য থাকা উচিত, আমরা সৌজন্যের রাজনীতিই করি। আর এটা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’’