বাড়ছে লকডাউনের পরিধি

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, শুক্রবার ঘাটাল মহকুমায় নতুন করে ২৫ জনের করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২০ ০৫:২৬
Share:

কন্টেনমেন্ট জ়োনের কাছে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ঘুরছে খুদে। মেদিনীপুর শহরের মালিয়াড়ায়। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল

দাসপুরের বড় অংশে সম্পূর্ণ লকডাউনের প্রস্তাব আগেই দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত বাড়ায় এ বার ঘাটাল ও ক্ষীরপাই (চন্দ্রকোনা ১) ব্লকের শহর-সহ একাধিক এলাকাতেও এ বার লকডাউনের প্রস্তাব দিল মহকুমা প্রশাসন। ঘাটালের মহকুমাশাসক অসীম পাল বলেন, “ঘাটাল, ক্ষীরপাই ব্লকের কিছু এলাকায় কড়া লকডাউনের প্রস্তাব জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।”

Advertisement

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, শুক্রবার ঘাটাল মহকুমায় নতুন করে ২৫ জনের করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে। আক্রান্ত চন্দ্রকোনা ১-এর বিডিও অভিষেক মিশ্রও। তাঁকে নিয়ে ওই ব্লকের ৭ ও দাসপুরের ১৮ জন আছেন তালিকায়। শনিবার সবাইকে শালবনি করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নতুন আক্রান্তদের ধরে শুক্রবার পর্যন্ত ঘাটাল মহকুমায় সক্রিয় করোনা রোগী ছিল ৮০জন। গণ্ডিবদ্ধ এলাকা বেড়ে হয়েছে ৫৭। বিডিও আক্রান্ত হওয়ায় শনিবার চন্দ্রকোনা-১ ব্লক অফিস গণ্ডিবদ্ধ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। এ দিন দু’জন যুগ্ম বিডিও-সহ ১৬ জনের লালারস নেওয়া হয়েছে। নমুনা নেওয়া হয়েছে বিডিওর স্ত্রী, ছেলেরও। আজ, রবিবার রিপোর্ট আসার পরে বিডিও অফিসের বাকি কর্মীদেরও করোনা পরীক্ষা হওয়ার কথা।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘাটাল মহকুমায় ঘাটাল ও দাসপুরে সংক্রমণ সর্বাধিক। তুলনায় চন্দ্রকোনার দু’টি ব্লকে সংক্রমণের হার অনেক কম। কিন্ত সেখানে খোদ বিডিও-র আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। চন্দ্রকোনা ১ ব্লকে চারজন পরিযায়ী শ্রমিকও আক্রান্ত হয়েছেন। দাসপুরে আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যেও ৭ জন পরিযায়ী শ্রমিক। বাকি ১১ জনের ৬ জন একই পরিবারের। আর পাঁচজন কর্মসূত্রে বাইরে ঘোরাঘুরি করেছেন।

Advertisement

জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, গত দেড় সপ্তাহে শুধু ঘাটাল মহকুমায় নতুন করে ১১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তারপরেও সেখানে দিন দিন বাড়ছে রাজনৈতিক কর্মসূচি। জমায়েত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। তাই ঘাটাল-দাসপুর ও চন্দ্রকোনা-১ ব্লকে বিক্ষিপ্ত ভাবে কড়া লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না দেখতে সক্রিয় হয়েছে পুলিশও। গড়বেতায় গাড়ির কাঁচ নামিয়ে দেখা হচ্ছে, ভিতরে মাস্ক ছা্ড়া কেউ আছেন কি না। আঢাকা মুখে কেউ বাজারে গেলে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গড়বেতা ১ ব্লক এলাকায় এখন গণ্ডিবদ্ধ এলাকার সংখ্যা মাত্র এক। কাদড়া অঞ্চলের সেই এলাকায় লকডাউন বিধি কার্যকর করতে পাহারায় আছেন পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা। অন্য এলাকার মতো সংক্রমণের খবর না থাকায় এখানে কয়েকদিন ধরেই রাস্তায় ও দোকানে ভিড় বাড়ছিল। হচ্ছিল জটলাও। মাস্ক না পরেই ঘুরছিলেন অনেকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ী, ছোট দোকানদার, আনাজ বিক্রেতা, হকারদের আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ক্রেতা মাস্ক ছাড়া এলে তাঁকে জিনিস বিক্রি না করতেও বলা হয়েছে। গড়বেতা, আমলাগোড়া, ধাদিকা, রাধানগর, খড়কুশমা, সন্ধিপুর, ফুলবেড়িয়া প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে পুলিশ কর্মীরা দাঁড়িয়ে বাইক, ছোট-বড় গাড়ি আটকাচ্ছেন। যাত্রীদের মুখে মাস্ক না থাকলে বা থুতনিতে মাস্ক থাকলে ধমক দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে চলছে মাইক প্রচার। গড়বেতা থানার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘প্রথমবার সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফের মাস্ক না পরে ঘুরলে গ্রেফতার করা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement