এ বার অশান্তির হাতিয়ার নুন- লঙ্কা

তৃণমূলের অভিযোগ, বিজয় মিছিল সেরে ফেরার পথেই বিজেপি কর্মী, সমর্থকেরা তাদের উপর আক্রমণ করে। নুন, লঙ্কাগুড়ো দিয়ে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

দাঁতন ও কেশিয়াড়ি শেষ আপডেট: ৩০ অগস্ট ২০১৮ ০২:০৬
Share:

বোর্ড গঠন ঘিরে দাঁতনে বিজেপি-তৃণমূল অশান্তি। মঙ্গলবার রাতের সেই গোলমালের জেরে আহত হয়েছেন দু’পক্ষের কয়েকজন। তৃণমূলের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপির দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Advertisement

দাঁতন ১ ব্লকের শালিকোঠা গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনে ভোটাভুটিতে টাই হওয়ায় লটারি হয়। লটারিতে জেতে বিজেপি। এরপর রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বেরোয় বিজয় মিছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজয় মিছিল সেরে ফেরার পথেই বিজেপি কর্মী, সমর্থকেরা তাদের উপর আক্রমণ করে। নুন, লঙ্কাগুড়ো দিয়ে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। মারধর করা হয় লাঠি দিয়ে। আহত হন তৃণমূলের গৌতম প্রধান, বিমল দাস, ওয়াসেদ খাঁ। তাঁদের অভিযোগ, ‘‘আমরা বসেছিলাম। হঠাৎ করে এসে একজনকে ওরা মারধর শুরু করে। কয়েকজন তাকে ছাড়াতে যাই। সেইসময় নুন ও লঙ্কা গুড়ো ছিটিয়ে দিয়ে মারধর করা হয়।’’ আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তৃণমূলের তরফে রাতে দাঁতন থানায় বারোজনের নামে অভিযোগ জানানো হয়। রাতেই বিজেপির অনুপম দেহুরি, দেবাশিস দাস নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে দাঁতন পুলিশ। অনুপম দাঁতন মণ্ডল কমিটির সাধারণ সম্পাদক। দাঁতন তৃণমূলের সভাপতি বিক্রমচন্দ্র প্রধান বলেন ‘‘বিজেপি আমাদের কর্মীদের ওপর মারধর করেছে। একজনের মাথা ফেটেছে। পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে।’’

বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, বিজয় মিছিল সেরে ফেরার পথে তৃণমূলের কয়েকজন তাদের উপর হামলা চালায়। আহত হন তাদের কয়েকজন কর্মী। আহতদের মধ্যে দু’জন হাসপাতালে ভর্তি। দাঁতনের বিজেপি নেতা মোশাফ মল্লিক বলেন, ‘‘তৃণমূল ও প্রশাসন ন্যক্কারজনক কাজ করছে। আমরা আক্রমণ করিনি। ওদের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের ফলেই ওদের নিজেদের লোক আহত হয়েছে।’’ বিজেপির অভিযোগ, হাসপাতালে অসুস্থদের দেখতে গেলে পুলিশ সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করে। ধৃতদের বুধবার মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

কেশিয়াড়ির খাজরাতে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের পর বাড়ি ফেরার সময় মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত হন তৃণমূলের চার কর্মী। তাদের মধ্যে দুজনকে মঙ্গলবার রাতে খড়্গপুর হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বিশ্বনাথ কর ও কবিতা নায়েক সেখানেই চিকিৎসাধীন।

তৃণমূলের ব্লক সভাপতি পবিত্র শীট বলেন," হেরে গিয়ে ওরা আমাদের লোকেদের ওপর মারধর করেছে।" অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব জগন্নাথ বোস বলেন," ওদের নিজেদের মধ্যে গন্ডগোলের জেরে এই ঘটনা। আমাদের কেউ মারধর করেনি।"

স্থানীয় সূত্রের খবর, বোর্ড গঠনের পর কবিতা, বিশ্বনাথ কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, আমগেড়িয়ার কাছে তাঁদের উপর চড়াও হয় চড়াও হয় কয়েকজন। রড, লাঠি দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরই তাঁদের স্থানীয় খাজরা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন