প্রতীকী ছবি।
‘আধিকারী গড়’ আর জেলা সদর— দুই পুরসভাতেই শাসকদল তৃণমূলের গলায় আটকেই রইল নির্দল কাঁটা!
কাঁথি, তমলুক এবং এগরা পুরসভার নির্বাচনের জন্য শনিবার ছিল প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। অধিকারী গড় হিসাবে পরিচিত কাঁথি পুরসভার ১, ৩, ৪, ৮, ১০, ১১, ১৮ এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দল হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তৃণমূলের টিকিট প্রত্যাশীরা। দলের তরফে তাঁদের বোঝানো হলেও এ দিন শুধুমাত্র ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা শেখ মোস্তফা আলি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তিনি এ দিন বলেন, ‘‘দলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। নেতৃত্ব আমার সঙ্গে আলোচনায় করায় আমি সন্তুষ্ট। দলের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।’’
যদিও বাকি ওযার্ডের নির্দল প্রার্থীদের সঙ্গে এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও ভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তৃণমূল নেতা ওই নির্দল প্রার্থীর কারও মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তো কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জেলার বাইরে চলে গিয়েছেন বলে ওয়ার্ডবাসী জানাচ্ছেন। ফলে ওই ওয়ার্ডগুলিতে বিজেপির পাশাপাশি শাসকদলের প্রার্থীদের সঙ্গে নির্দল প্রার্থীর লড়াই ভালই জমবে বলেই মনে করছেন শহরবাসী।
অবশ্য যে সব নির্দল প্রার্থী দলীয় নির্দেশ অমান্য করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় পদক্ষেপের ব্যাপারে জানিয়েছেন তৃণমূলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব। কাঁথি পুরসভার নির্বাচনী কমিটি দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য তথা বিধায়ক উত্তম বারিক বলেন, ‘‘ওঁদের ব্যাপারে রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হচ্ছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হচ্ছে।’’ কাঁথি মহকুমা সূত্রের খবর, এই পুরসভায় নির্বাচনে ৮৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যার মধ্যে তৃণমূল, বিজেপি ছাড়াও বাম এবং কংগ্রেস প্রার্থীরাও রয়েছেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর তমলুকের ২০টি ওয়ার্ডে প্রার্থী থাকছেন ৬৮ জন। এঁদের মধ্যে তৃণমূলের ২০, বিজেপির ২০, বামফ্রন্টের ১৭, এসইউসি’র সাত জন, কংগ্রেসের দু’জন এবং নির্দল দু’জন রয়েছেন। উল্লেখ্য, তমলুকে প্রার্থী পদের জন্য ৭৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় কংগ্রেসের একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। আর ৫ জন নির্দল প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন মনোনয়ন এ দিন প্রত্যাহার করেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থী রমেন্দ্রনাথ দত্তও মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
তমলুকে যে সব বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা নির্দল হিসাবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন, তার মধ্যে এ দিন একজন তা প্রত্যাহার করেননি। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ভানুপদ সাহা, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর রঞ্জিতা জানা এবং তাঁর ছেলে কুশধ্বজ জানা নির্দল হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল শহর নেতৃত্ব তাঁদের বোঝানোর পরে এ দিন রঞ্জিতা ও কুশধ্বজ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। যদিও ভানুপদ নির্দল হিসাবেই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে ৪ নম্বর ওযার্ডে ভানুপদের সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী বিমল ভৌমিকের লড়াই হবে ভোটে। এ ব্যাপারে সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, ‘‘ভানুপদ সাহাকে বোঝানো হলেও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। রাজ্য নেতৃত্ব যা নির্দেশ দেবেন, সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে।’’ এ দিকে, বিজেপির প্রার্থী হিসাবে টিকিট না পেয়ে তমলুকে দুই বিজেপির নেতা নির্দল প্রার্থী পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি নেতা রবীন্দ্রনাথ কাণ্ডার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
এগরায় ২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের ক্ষুব্ধ নেতা পৌলমী প্রহরাজ এবং বিজেপি কবিতা পঞ্চধ্যায়ী নির্দল হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এ দিন অবশ্য তাঁরা দু’জনই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এগরায় ৪৮ জন প্রার্থী লড়ছেন পুরভোটে। এর মধ্যে বামদের ১১ জন, বিজেপির ১৪ জন, তৃণমূলের ১৪ জন, কংগ্রেসের ৩ জন, এসইউসি-র এক জন, নির্দল চার জন, এবং এনসিপি’র একজন প্রার্থী রয়েছেন। এই পুরসভায় মোট ৫১ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।