অনাথদের মাঝেই রকি স্মরণ

দু’চোখে জল। আবেগ সামলে নতুন পোশাক ও আতসবাজি দুঃস্থ -অনাথ শিশু-কিশোরদের হাতে তুলে দিলেন পবনকুমার অগ্রবাল ও সত্যভামা অগ্রবাল। উপহার পেয়ে উবরাম রিয়াং, মিত্র চাকমা, নীলবরাম রিয়াংদের মুখে চোখে খুশির ঝিলিক।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৫ ০০:৪১
Share:

আবাসিকদের উপহার দিচ্ছেন রকির বাবা ও মা। ছবি: দেবরাজ ঘোষ।

দু’চোখে জল। আবেগ সামলে নতুন পোশাক ও আতসবাজি দুঃস্থ -অনাথ শিশু-কিশোরদের হাতে তুলে দিলেন পবনকুমার অগ্রবাল ও সত্যভামা অগ্রবাল। উপহার পেয়ে উবরাম রিয়াং, মিত্র চাকমা, নীলবরাম রিয়াংদের মুখে চোখে খুশির ঝিলিক।

Advertisement

বছর দেড়েক আগে একমাত্র সন্তান সৌরভ ওরফে রকিকে হারিয়েছেন অগ্রবাল দম্পতি। বুধবার দেওয়ালির দিনে রকির ২৮তম জন্মদিনটা ঝাড়গ্রাম শহরের বলরামডিহি এলাকার এক অনাথালয়ে কাটালেন তাঁরা। রকির জন্মদিন উপলক্ষে ‘সৌরভ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে ওই অনাথালয় প্রাঙ্গণে এক স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসেছিলেন ঝাড়গ্রামের এসডিপিও বিবেক বর্মা। তিনি বলেন, “সৌরভের মৃত্যুর ঘটনাটা আমাদের সবার কাছে অত্যন্ত বেদনার। সৌরভের স্মৃতি-সংগঠনটি অনেক মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তাঁর সেবামূলক কাজ ও স্মৃতিকে অমলিন রাখবে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।” রকির মা সত্যভামাদেবী আঁচলে চোখের জল মুছে বলেন, “কালীপুজোয় দিনভর উপোস করত রকি। নিজের জন্মদিনে ও দিওয়ালিতে খুঁজে খুঁজে আর্তপীড়িতদের ডেকে এনে উপহার দিত।’’

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রকির বাল্যবন্ধু তথা হুগলির উত্তরপাড়া কলেজের শিক্ষক দেবব্রত সেন বলেন, “যে দিন রকি নিখোঁজ হয়, শেষ বার আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। এ সব স্মৃতি কোনও দিনই ভোলার নয়। সেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে আমরা রকিকে বাঁচিয়ে রাখব।”

Advertisement

অনুষ্ঠান চলাকালীন বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন রকির বাবা পবনবাবু ও পরিজনরা। তাঁদের কথায়, যারা রকিকে কেড়ে নিল, তাদের যেন কঠোর শাস্তি হয়। পবনবাবু জানান, রকির স্মৃতিতে একটি অ্যাম্বুল্যান্স পরিবেষা চালু করা হয়েছে।

তরতাজা যুবক রকি ছিলেন পেশায় নির্মাণ সরঞ্জামের ব্যবসায়ী। পরোপকারী ও বন্ধুবত্‌সল হিসেবে এলাকায় এক ডাকে সবাই তাঁকে চিনতেন। সেই রকিই গত বছর ২৫ এপ্রিল ব্যবসায়িক কাজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে অপহৃত হন। অপহরণকারীরা রকির বাবা পবনকুমার অগ্রবালের মোবাইলে ফোন করে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গত বছর ৬ মে ওড়িশার গঞ্জামের রম্ভা এলাকায় রকির ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পবনবাবুর পারিবারিক বন্ধু পেশায় রেলের ঠিকাদার অশোক শর্মাই এই হত্যাকাণ্ডের নাটের গুরু। রকিকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগে অশোক-সহ মোট সাত জন
গ্রেফতার হন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement