অহেতুক খরচ বন্ধ করুন, ধমক পর্যটন সচিবের

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি সংলগ্ন নির্মীয়মান ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসে মেজাজ হারালেন রাজ্যের পর্যটন দফতরের প্রধান সচিব অজিতরঞ্জন বর্ধন।

Advertisement

কিংশুক গুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৩৫
Share:

কাজ পরিদর্শনে অজিতরঞ্জন বর্ধন। দেবরাজ ঘোষের তোলা ছবি।

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি সংলগ্ন নির্মীয়মান ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসে মেজাজ হারালেন রাজ্যের পর্যটন দফতরের প্রধান সচিব অজিতরঞ্জন বর্ধন। বৃহস্পতিবার পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের রীতিমতো ধমক দিয়ে অজিতবাবু বলেন, “কী ভেবেছেন আপনারা! সরকারি টাকা বলে যথেচ্ছ ভাবে খরচ করবেন! কাজের নামে অহেতুক খরচ বাড়িয়ে চলেছেন। বন্ধ করুন এসব।” কটেজগুলির সামনে রাস্তা তৈরির জন্য পূর্ত দফতর দু’টি জলাশয়ের কিছু অংশে মাটি ফেলেছে দেখে চটে যান অজিতবাবু। ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স প্রকল্পটির প্রাচীর ও সৌন্দর্যায়ন-সহ বেশ কিছু কাজ বাতিল করে দেন তিনি। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকল্পটি উদ্বোধন করতে আসবেন বলে এখন টনক নড়েছে পর্যটন দফতরের। পর্যটন দফতরের নজরদারির অভাবে প্রকল্পের কাজটি যথাযথ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রাজ পরিবারের একাংশ।

Advertisement

পর্যটন দফতর ও রাজ পরিবারের যৌথ উদ্যোগে রাজপ্রাসাদের সিংহদরজার বাইরে ১৫ একর বিশাল এলাকা জুড়ে ওই ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হচ্ছে। ওই প্রকল্পটি রূপায়নের জন্য দু’বছর আগে ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাজ্য সরকার ও রাজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মৌ স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি রূপায়ণের জন্য ১০ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সাড়ে তিন কোটি টাকার কাজ হয়েছে।

পর্যটন দফতর সূত্রের খবর, পুজোর আগেই পর্যটকদের জন্য প্রথম পর্যায়ে তৈরি ১১টি কটেজ চালু করা হবে। সেজন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়গ্রামে এসে ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের সম্ভাব্য দিন ১০ অক্টোবর। প্রকল্পটির নামকরণও করবেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এখনও প্রকল্পের বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পের কাজ নিয়ে পর্যটন দফতরের উপর রীতিমতো অখুশি রাজ পরিবারের সদস্যরাও।

Advertisement

এদিন ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সটি পরিদর্শনের সময় অজিতবাবুর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের এমডি সি মুরুগন, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা ও পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। ছিলেন রাজ পরিবারের প্রতিনিধি এবং রাজপরিবারের আইনজীবী কৌশিক সিংহ।

কটেজ গুলির ইলেকট্রিক ওয়্যারিংয়ের কাজ দেখে বিরক্ত অজিতবাবু পূর্ত আধিকারিকদের কাছে জানতে চান, ছোট ছোট ঘরগুলিতে দু’টি সিলিং ফ্যানের পয়েন্ট কেন? কেনই বা এক গাদা সুইচ ও প্লাগ পয়েন্ট। পূর্ত আধিকারিকরা অজিতবাবুকে বোঝাতে গিয়ে ধমক খান। অতিরিক্ত সুইচ অবিলম্বে খুলে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিটি কটেজে সিলিংয়ের দু’দিকে দু’টি ফ্যানের পরিবর্তে একটি ফ্যান লাগানোর নির্দেশ দেন অজিতবাবু। প্রতিটি কটেজের দরজায় লাগানো অতিরিক্ত লোহার কোলাপসিবল দরজা খুলে ফেলতে বলেন তিনি। কমপ্লেক্সের লাগোয়া দু’টি প্রাচীন পুকুরের গার্ড ওয়াল তৈরির কাজও বন্ধ করিয়ে দেন তিনি। সৌন্দর্যায়নের জন্য কমপ্লেক্সের চারপাশে ও ভিতরের রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের আলো লাগানোর পূর্ব সিদ্ধান্তটি বাতিল করে দিয়ে ন্যূনতম আলোর ব্যবস্থা করার জন্য পূর্ত আধিকারিকদের নির্দেশ দেন অজিতবাবু। রাজবাড়ির সিংহ দরজার বাইরে সৌন্দর্যায়নের কাজ বাতিল করে দিয়ে সেখানে গাড়ি পাকিংয়ের জায়গা করার নির্দেশ দেন পর্যটন দফতরের প্রধান সচিব।

এ দিন রাজ পরিবারের সদস্য তথা পুরপ্রধান দুর্গেশ মল্লদেব আগাগোড়া নিশ্চুপ ছিলেন। তবে তাঁর ভাই জয়দীপ মল্লদেব বারে বারেই উষ্মা প্রকাশ করতে থাকেন। রাজ পরিবারের আইনজীবী কৌশিক সিংহ পর্যটন সচিবকে জানান, আগে প্রশাসনিক স্তরে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সাবেক রাজবাড়ির হেরিটেজ ভবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবনটি তৈরি করা হবে। রাজবাড়ির সিংহদরজার রং মিলিয়ে কমপ্লেক্স ভবনটির রং করা হবে। রাজবাড়ির সিংহদরজার বাইরে দু’দিকে বাহারি বাগান ও ফোয়ারা তৈরি করা হবে। এ বিষয়গুলি বিবেচনা করে পরিবর্তন না করার জন্য আবেদন জানান কৌশিকবাবু।

রাজ পরিবারের সদস্য জয়দীপ মল্লদেব বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্পটি পর্যটন ও পূর্ত দফতরের সমন্বয়ের অভাবে যথাযথ ভাবে রূপায়িত হচ্ছে না। সাবেক রাজবাড়ির সামনে সম্পূর্ণ কপোরেট আঙ্গিকে ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সটি তৈরি করা হচ্ছে। এমন কিন্তু কথা ছিল না।”

পরে অজিতবাবু বলেন, “এখানে কিছু প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। পুজোর আগে অনলাইনে বুকিং দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। জেলাশাসকের সভাপতিত্বে একটি কমিটির মাধ্যমে পর্যটন কমপ্লেক্সটি পরিচালনা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করতে আসবেন কি-না সেটা এখনও চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়।” পূর্ত দফতরের একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যাসাগর ইউনিভার্সিটি ডিভিশন বীরেন্দ্রনাথ দে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “বিলাসবহুল ভাবে কটেজগুলি তৈরি করতে বলা হয়েছিল। সেভাবেই করা হয়েছে। দু’সপ্তাহের মধ্যে কীভাবে অদল বদল করে কাজ শেষ হবে জানি না।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement