কাজের দিনে বন্ধ ব্যাঙ্ক, ভোগান্তি

কাজের দিনে ব্যাঙ্ক বন্ধের নোটিস দেখে তাজ্জব গ্রাহকেরা। মঙ্গলবার আদালতে একটি মামলায় মেদিনীপুর শহরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিক ও কর্মীদের হাজিরার দিন ছিল। ফলে কাজের দিনে ব্যাঙ্কই বন্ধ রাখলেন কর্তৃপক্ষ। গেটে ব্যাঙ্ক বন্ধের বিজ্ঞপ্তিও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ভোগান্তির শিকার হন গ্রাহকেরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ০০:৪৫
Share:

ব্যাঙ্ক বন্ধের নোটিস। —নিজস্ব চিত্র।

কাজের দিনে ব্যাঙ্ক বন্ধের নোটিস দেখে তাজ্জব গ্রাহকেরা।

Advertisement

মঙ্গলবার আদালতে একটি মামলায় মেদিনীপুর শহরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিক ও কর্মীদের হাজিরার দিন ছিল। ফলে কাজের দিনে ব্যাঙ্কই বন্ধ রাখলেন কর্তৃপক্ষ। গেটে ব্যাঙ্ক বন্ধের বিজ্ঞপ্তিও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ভোগান্তির শিকার হন গ্রাহকেরা।

মামলাটি ঠিক কী? ঘটনাটি গত বছরের গোড়ার দিকের। শহরের স্কুলবাজারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক তারা শুকুল। তাঁর বাড়ি পালবাড়ি এলাকায়। তারাদেবী স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী ছিলেন। ঘটনার মাস কয়েক আগে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। অবসরের পর সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্য সব টাকা পেয়েও যান। সেই টাকা ব্যাঙ্কে জমা পড়ে। ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর শেষ ২ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন তিনি। এরপর তাঁর অ্যাকাউন্টে ৯ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৪ টাকা ছিল। ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি তারাদেবীর ছেলে অভিজিৎ শুকুল ব্যাঙ্ক থেকে আড়াই লক্ষ টাকা তুলতে আসেন। চেক জমা দেন। কিছু পরে অবশ্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অভিজিৎকে জানিয়ে দেন, তারাদেবীর অ্যাকাউন্টে মাত্র ৭৯ হাজার টাকা রয়েছে। ফলে, আড়াই লক্ষ টাকা তোলা সম্ভবই নয়। শুনে থ হয়ে যান অভিজিৎ। বাকি টাকা তাহলে গেল কোথায়? তারাদেবীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামের ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। দেখা যায়, এই অ্যাকাউন্ট থেকে ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর ৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। পুরনো চেক বই তারাদেবীর কাছেই রয়েছে। ওই দিন নতুন চেক বই ইস্যু করে টাকা তোলা হয়েছে। ঘটনায় বিড়ম্বনায় পড়েন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও।

Advertisement

গ্রাহকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গোড়ায় মেদিনীপুর কোতয়ালি থানার পুলিশই মামলা রুজু করে। পরে তদন্তভার যায় ‘ডিস্ট্রিক্ট এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ’ (ডিইবি)-এর হাতে। তদন্ত এখনও চলছে। সাক্ষর নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার ওই ব্যাঙ্কের স্কুলবাজার শাখার ১৭ জন আধিকারিক-কর্মীকে আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়। সেই মতো এ দিন দুপুরে ব্যাঙ্কের ১৭ জন আধিকারিক- কর্মী আদালতে হাজিরও হন। জানা গিয়েছে, একসঙ্গে এতজনের আদালতে হাজিরার দিন থাকায় এ দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন কর্তৃপক্ষ।

ইতিমধ্যে জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তারাদেবী। ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের রায় তাঁর পক্ষেই গিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ব্যাঙ্কে এসে ফিরে যান গ্রাহক অচিন্ত্য মুখোপাধ্যায়। অচিন্ত্যবাবু বলেন, “আজ তো ছুটির দিন নয়। তাও ব্যাঙ্ক কী করে বন্ধ থাকছে বুঝতে পারছি না।” নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিসার অবশ্য বলেন, “আমাদের ১৭ জনের আদালতে হাজিরার দিন ছিল। ফলে, আজকের দিনে ব্যাঙ্ক খোলা রাখলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা হত। তাই ব্যাঙ্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement