খরচ করতে না পারলে টাকা ফেরতের নির্দেশ

খরচ না করতে পারলে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা সাফ জানিয়ে দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠকে বিডিও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের এ জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন সভাধিপতি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০১৫ ০০:২০
Share:

খরচ না করতে পারলে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা সাফ জানিয়ে দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠকে বিডিও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের এ জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন সভাধিপতি।

Advertisement

সম্প্রতি রাজ্যের সমস্ত জেলা পরিষদের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক ও জেলা পরিষদের সভাধিপতিদের নিয়ে কলকাতায় বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। চলতি অর্থবর্ষে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদে এখনও ৯৯ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে! হাতে সময় মাত্র আড়াই মাস। খরচ না করতে পারলে উন্নয়ন থমকে থাকবে। তাই দ্রুত গতিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারই সঙ্গে যে সমস্ত কাজ হয়ে যাবে তার খরচ যাতে দ্রুত জেলাতে পাঠানো হয় সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিতান্তই যদি কোনও ব্লক বা গ্রাম পঞ্চায়েত কাজ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিটি ব্লককে দ্রুত কাজ করার কথা জানিয়েছিল জেলা প্রশাসন। তার জেরে কতটা কাজ এগিয়েছে তা খতিয়ে দেখতেই শুক্রবার জেলা পরিষদ হলে বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উত্তরাদেবী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা, অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) পাপিয়া ঘোষ রায়চৌধুরী, জেলা পরিষদের সচিব দিব্যনারায়াণ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ব্লকের বিডিও, সভাপতি, পঞ্চায়েতের সচিব, নির্মাণ সহায়ক প্রমুখ।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বারের বৈঠকে যে হিসাব পাওয়া গিয়েছে তাতে প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তার মধ্যে কিছু টাকা আগেই খরচ হয়েছিল, কিন্তু খরচের হিসাব দেখাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতি। এখন সেই হিসাব দেওয়ার পাশাপাশি কাজেও গতি আনার চেষ্টা করছে। ফলে পড়ে থাকা টাকা ৯৯ কোটির পরিবর্তে এখন প্রায় ৭০ কোটিতে নেমে এসেছে। কিন্তু আদৌ কী আড়াই মাসে ৭০ কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হবে? এক প্রশাসনিক কর্তার কথায়, “হয়তো ৭০ কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। তবে যদি সকলেই সক্রিয়ভাবে কাজ করে তাহলে বড় জোর হয়তো ২০ কোটি টাকা পড়ে থাকতে পারে। আর সক্রিয়তা আনার জন্যই টাকা ফেরতের হুমকিও দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে।” তাঁর বক্তব্য, “যে কোনও প্রকল্পে টাকা পাওয়া কঠিন কাজ। কিন্তু সে টাকা ফিরে গেলে পুনরায় তা পাওয়া অনেক বেশি কঠিন। এটা সকলেরই জানা। তাছাড়াও টাকা ফিরে গেলে নিজেদের এলাকার উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত হবে, মানুষের কাছে জবাবহিহি করতে হবে, সেই সমস্যা থেকে বাঁচতে সকলেই দ্রুত গতিতে কাজ করার চেষ্টা করবেন।”

কোন কোন খাতে টাকা খচ করতে পারেনি জেলা পরিষদ?

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামীন হাট তৈরি, রাষ্ট্রীয় শম বিকাশ যোজনা, ইন্দিরা আবাস যোজনা, লোধাদের বাড়ি তৈরি, দ্বাদশ অর্থ কমিশন, ত্রয়োদশ অর্থ কমিশন, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর থেকে পাওয়া টাকা, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন (আরআইডিএফ)-সহ বিভিন্ন খাতেই কোটি কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। চলতি আর্থিক বছর শেষ হতে বাকি মাত্র আড়াই মাস। এই আর্থিক বছরে প্রাপ্য টাকা খরচ না করতে পারলে পরবর্তী আর্থিক বছরে টাকা মিলবে না, ফলে প্রাপ্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হবে জেলা। এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য এ বার টাকা খরচে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে জেলা পরিষদ। বৈঠক যেমন করা হয়েছে, তেমনি কাজ ঠিক মতো হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে এ বার নজরদারিও বাড়ানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তারই সঙ্গে নিয়মিত সংগ্রহ করা হবে টাকা খরচের হিসাবও।

যদিও এই হুমকি কতটা কাজে লাগবে তা সময়ই বলতে পারবে। কারণ, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে জেলা পরিষদে পড়ে থাকা টাকা খরচ যাঁরা করতে পারেননি তাঁরা এই ক’দিনে পুরো টাকা খরচ করতে পারবেন, সব প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে পারবেন, এমনটা প্রশাসনিক কর্তারাও ধরে নিতে পারছেন না। তবে এই চাপ যে কাজে কিছুটা হলেও গতি নিয়ে আসবে, তা অবশ্য মানছেন সকলেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement