পুকুরে পড়ে গিয়েছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেকার। —নিজস্ব চিত্র।
মুখোমুখি ধাক্কা লেগে পুকুরে উল্টে গেল একটি ট্রেকার ও একটি টোটো। সোমবার ভোরে চণ্ডীপুর থানার ঝাউতলা এলাকার ওই দুর্ঘটনায় এক মহিলা-সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন এক শিশু, বৃদ্ধা ও টোটোচালক-সহ চারজন। তাঁরা একই পরিবারের। মৃতদের নাম আসমিনা বিবি (২০), শেখ হামিদুল (১৩) ও শেখ ইস্রাসিল (৩৫)। আহতদের উদ্ধার করে চণ্ডীপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, পশ্চিম কোটবাড় গ্রামের বাসিন্দা ওই পরিবারের ছয় সদস্য এ দিন ওড়িশার চন্দনেশ্বরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। কলকাতা-দিঘা সড়কে নরঘাট বাজারে ওড়িশাগামী বাসে ওঠার জন্য তাঁরা ভোর ৫টা নাগাদ চৌখালি বাজারের কাছে ওই টোটোগাড়িতে ওঠেন। চৌখালি বাজার থেকে গ্রামীণ পাকা সড়ক ধরে নরঘাটের দিকে যাওয়ার সময় উল্টোদিক থেকে আসা একটি ট্রেকারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ট্রেকারে অবশ্য কোনও যাত্রী ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দারা এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ঘটনাস্থলেই আসমিনা বিবি ও এক যুবকের মৃত্যু হয়। এক শিশু, এক কিশোর, বৃদ্ধা ও টোটো চালককে উদ্ধার করে চণ্ডীপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। পরে শেখ হামিদুল নামে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। আহত শেখ ইনসার হক এ দিন বলেন, ‘‘ট্রেকারের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পরেই দু’টি গাড়ি একসঙ্গে রাস্তার পাশে পুকুরের জলে পড়ে যায়।’’ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পরেই ট্রেকারের চালক পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেচেদা, তমলুক থেকে নরঘাট হয়ে চৌখালি বাজার পর্যন্ত সড়কে যাতায়াতের জন্য আগে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাস চলাচল করত। এখন ট্রেকার, টোটোর দাপটে সে সব বন্ধ হওয়ার জোগাড়। টোটোগুলি বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। এ দিকে ভোরবেলা দুর্ঘটনার জেরে চৌখালি বাজার এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। চৌখালি-নরঘাট রুটে সব গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। সকাল ১০ টা নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।