শিক্ষাকেন্দ্র

বর্ধিত সাম্মানিক ফের দেওয়ার নির্দেশ রাজ্যের

শিশু শিক্ষাকেন্দ্র (এসএসকে) ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের (এমএসকে) কর্মীদের বর্ধিত সাম্মানিক হঠাত্‌ কেটে নিচ্ছিল সরকার। অবশেষে সেই টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে নির্দেশ জারি হল। গত এপ্রিল থেকে এই বর্ধিত সাম্মানিক পাবেন সহায়ক-সহায়িকা, সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকারা। চাকরির মেয়াদ তিন বছর পেরোলে ৫ শতাংশ সাম্মানিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০১৫ ০১:১৬
Share:

শিশু শিক্ষাকেন্দ্র (এসএসকে) ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের (এমএসকে) কর্মীদের বর্ধিত সাম্মানিক হঠাত্‌ কেটে নিচ্ছিল সরকার। অবশেষে সেই টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে নির্দেশ জারি হল। গত এপ্রিল থেকে এই বর্ধিত সাম্মানিক পাবেন সহায়ক-সহায়িকা, সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকারা।
চাকরির মেয়াদ তিন বছর পেরোলে ৫ শতাংশ সাম্মানিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সেই মতো ২০১৩ সালের ১ জুন থেকে বর্ধিত সাম্মানিক পাচ্ছিলেন এসএসকে এবং এমএসকে-র সহায়ক-সহায়িকা, সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকা ও অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজাররা। কিন্তু হঠাত্‌ করেই ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে সেই বাড়তি টাকা কেটে নেওয়া শুরু হয়। টাকা কাটার কারণ জানতে শুরু হয় চিঠি চালাচালি। কর্মীরাও আবেদন করতে থাকেন। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গত এপ্রিল থেকে বর্ধিত সাম্মানিক দেওয়া হবে।
কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, গত বছর অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৬ মাসের যে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছিল, তা কি আর পাওয়া যাবে না? এমএসকে, এসএসকে তৃণমূল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি সুজিত ঘোষ অবশ্য বলেন, ‘‘ওই ৬ মাসের বর্ধিত সাম্মানিকও যাতে দেওয়া হয় সেই আবেদন জানাব।’’ একই সুরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সদস্য তথা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার উষা কুণ্ডুর বক্তব্য, ‘‘বর্ধিত সাম্মানিক কেটে নেওয়ার বিষয়টি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছিলাম। যাতে বকেয়া ৬ মাসের বর্ধিত সাম্মানিক মেলে এ বার সেই দাবি জানাব।’’ তবে এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের মুখে কুলুপ। জেলা পরিষদের সচিব তথা এসএসকে-এমএসকে-র দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক দিব্যনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “৫ শতাংশ বর্ধিত সাম্মানিক দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। সরকারি নির্দেশ মেনেই এবার থেকে সকলে বর্ধিত সাম্মানিক পাবেন।”

Advertisement

বিরোধীদের অবশ্য অভিযোগ, গোটা বিষয়টির মধ্যে রাজনীতি রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি শুভজিত্‌ রায়ের কথায়, ‘‘সামনে বিধানসভা নির্বাচন না থাকলে এই সাম্মানিক পুনরায় চালু হত কিনা সন্দেহ।’’

পশ্চিম মেদিনীপুরে সহায়ক-সহায়িকা আছেন ৬২৮৩ জন। সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকার সংখ্যা ৪০৪ জন। আর অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আছেন ১০৮ জন। রাজ্যের সব জেলা মিলিয়ে কর্মী সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। আগে সহায়ক-সহাকিাদের সাম্মানিক ছিল ৫৪০০ টাকা। সম্প্রসারকদের (পাশ) ৮১০০ টাকা। ২০১০ সালে তত্‌কালীন রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ৩ বছর চাকরির মেয়াদ অতিক্রম করলে ৫ শতাংশ সাম্মানিক বৃদ্ধি করা হবে। ২০১৩ সালে ১ জুন যাঁরা ৩ বছর চাকরির মেয়াদ অতিক্রম করেন, তাঁরাই ৫ শতাংশ বর্ধিত সাম্মানিক পান। অর্থাত্‌ ৫৪০০ টাকা বেড়ে হয় ৫৬৭০ টাকা। ৮১০০ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫০৫ টাকা। এই বর্ধিত সাম্মানিক কেটে দেওয়া নিয়েই সমস্যা দেখা দেয়। এ দিকে আবার, জুনেও বহু এসএসকে-এমএসকে-র কর্মীরা এপ্রিলের বেতন পাননি। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, এপ্রিলের সাম্মানিক দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কের কিছু ত্রুটির কারণে তা সকলে পাননি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ যাতে দ্রুত সকলকে সাম্মানিক দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement