Sovandeb Chatterjee and Speaker Biman Banerjee

বক্তব্যের মাঝপথে মাইক বন্ধ করায় ক্ষোভে অধিবেশন ত্যাগ মন্ত্রী শোভনদেবের! অভিমান ভাঙাতে ঘরে গেলেন স্পিকার

বক্তৃতা চলাকালীন মাইক বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের কারণে অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে নিজের ঘরে চলে যান পরিষদীয়মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ক্ষোভ প্রশমিত করতে মন্ত্রীর ঘরে গিয়ে কথা বলেন স্পিকার।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৮
Share:

(বাঁ দিকে) শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

অষ্টদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশনের শেষ দিনে ঘটল এক নজিরবিহীন ঘটনা। বিধানসভায় বাজেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল নিয়ে আলোচনার সময় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। বক্তৃতা চলাকালীন মাইক বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের কারণে অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে নিজের ঘরে চলে যান পরিষদীয়মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ক্ষোভ প্রশমিত করতে পরিষদীয়মন্ত্রীর ঘরে গিয়ে কথা বলেন স্পিকার। বিধানসভার ইতিহাসে কোনও মন্ত্রীর ঘরে স্পিকারের গিয়ে কথা বলার ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

জানা গিয়েছে, বাজেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল নিয়ে আলোচনার সময় বক্তাদের তালিকায় শোভনদেবের নাম প্রথমে ছিল না। আবাসনমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের অনুরোধে তাঁকে চার মিনিট সময় বরাদ্দ করেন স্পিকার। বিধানসভায় রীতি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে বক্তার সামনে সবুজ আলো জ্বলে ওঠে এবং সময় শেষ হলে লাল আলো জ্বালিয়ে মাইক বন্ধ করা হয়। সেই নিয়ম মেনেই শোভনদেবের বক্তৃতার সময়ও সবুজ ও পরে লাল আলো জ্বালানো হয় এবং মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে। যদিও পরিষদীয়মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, তাঁর বক্তৃতার কিছু ক্ষণের মধ্যেই প্রথমে সবুজ আলো এবং তার পর লাল আলো জ্বলে ওঠে। বন্ধ হয় মাইক। তার জেরে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েন পরিষদীয়মন্ত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে অরূপ স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান শোভনদেবকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য। কিন্তু তখন স্পিকার বলেন, “আপনি আমাকে চাপ দিতে পারেন না। আপনার নাম আগে তালিকায় ছিল না, থাকলে সময় দিতাম।” এই কথোপকথনের মধ্যেই অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, বিরোধী বিধায়কদের ক্ষেত্রেও প্রায়ই সময়সূচি শিথিল করা হয়।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করেন শোভনদেব। এমনকি বিরতির সময় স্পিকারের ঘরে গুরুত্বপূর্ণ কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকেও যোগ দেননি তিনি। যে কারণে অধিবেশনের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পরে তাঁর ঘরে গিয়ে কথা বলেন স্পিকার। দু’পক্ষই এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এমনকি ধন্যবাদ জ্ঞাপক ভাষণ দিতেও পরিষদীয়মন্ত্রীকে অধিবেশনে দেখা যায়নি। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে অরূপ জানান, বিশেষ কাজে ব্যস্ত থাকার কারণেই পরিষদীয়মন্ত্রী অধিবেশনে থাকতে পারেননি। বিধানসভার একাংশ কর্মী ও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দুই বর্ষীয়ান নেতার মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement