Suvendu Adhikari At North Bengal

শুভেন্দুর বৈঠকে খুশি তৃণমূলের বাইরন থেকে সিপিএমের রানা, ঘণ্টা দুয়েকের আলোচনায় আশ্বস্ত সংখ্যালঘু এলাকার জনপ্রতিনিধিরা

শুক্রবার মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুরের প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভাস্থল ছিল মালদহ কলেজ অডিটোরিয়াম।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ২২:০১
Share:

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তাঁর সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধীদের সর্বদা স্বাগত জানানো হবে। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের চার জেলার শাসক-বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশস্তি করলেন তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেসের বিধায়কেরা। তৃণমূলের বাইরন বিশ্বাস থেকে সিপিএমের মুস্তাফিজুর রহমান রানা সকলেই প্রকাশ্যে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন। এলাকা সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন। যদিও শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি ডাক পাননি বলে জানিয়েছেন মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী।

Advertisement

শুক্রবার মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুরের প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভাস্থল ছিল মালদহ কলেজ অডিটোরিয়াম। দুপুর ৩টে ২৫ মিনিটে বৈঠকে ঢোকেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ২ ঘণ্টা বৈঠক হয়। তার পর সাংবাদিক সম্মেলনের কথা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী সময়ের অভাবে তা হয়নি। সূত্রের খবর, বৈঠকে চার জেলার প্রত্যেকটি বিধানসভার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা হয়। বিরোধী বিধায়ক এবং সাংসদদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তাঁদের এলাকার সমস্যার কথা। তা ছাড়াও বৈঠকে চার জেলার সীমান্ত কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হয়েছে কি না জানতে চান। পাশাপাশি কাঁটাতার দেওয়ার কাজের অগ্রগতির কথা শোনেন।

মালদহ-মুর্শিদাবাদের নদীভাঙন এবং ফি বছরে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই দুই সমস্যার স্থায়ী সমাধান খোঁজা হয়। মালদহের চাঁচল এবং গাজলে পুরসভা তৈরিরি ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে বলে খবর।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজেদের এলাকার সমস্যার কথা বলতে পেরে খুশি তৃণমূলের বিধায়ক এবং সাংসদেরা। বৈঠকে উপস্থিত থাকা নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিধায়ক বলেন, ‘‘সংখ্যালঘু এলাকার সাংসদ ও বিধায়কেরা মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেন দ্বিচারিতা না করে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন সংখ্যালঘুরা বঞ্চিত হবেন না। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়নে সমান নজর দেবে সরকার।’’

মালদহ জেলায় তৃণমূলের ছয় বিধায়কের ছ’জন, মুর্শিদাবাদের আট জন তৃণমূল বিধায়কই শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির ছিলেন। প্রশাসনিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস বিধায়ক এবং সাংসদ আমন্ত্রণ পেলেও মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ইশা ডাক পাননি। তিনি জানান, তাঁর কাছে মেল যায়নি। প্রশাসনের তরফে ফোনও করা হয়নি। অন্য দিকে, সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বাইরন জানিয়েছেন, তাঁরা এখন বিরোধী আসনে রয়েছেন। তাঁদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার জনপ্রতিনিধি যাঁরা তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে উন্নয়নের খামতি হবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement