Rebel TMC MPs

‘২০ নয়, সঙ্গে ২২ জন সাংসদ’! আরও দুই কে, জল্পনা উস্কে দিয়ে দিল্লি গেলেন কাকলি, সোমবারই স্পিকারকে দরবার বিদ্রোহীদের

‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের একাংশের সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার কলকাতায় হওয়ার কথা ছিল তাঁদের বৈঠক। পরে তাঁদের তরফে জানানো হয়, বৈঠকটি হচ্ছে দিল্লিতে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১২:৫৭
Share:

(বাঁ দিকে) কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ওম বিড়লা (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

২০ জন নয়, ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে থাকছেন ২২ জন সাংসদ। রবিবার সকালে দিল্লি রওনা হওয়ার পথে এমনটাই দাবি করলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের বৈঠক রয়েছে বলে খবর। কাকলির দাবি, সোমবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন স্পিকার। ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে যোগ দিচ্ছেন, তা এক প্রকার স্পষ্ট হয়ে যায় শনিবার। তার আগে ১৯ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের সই সংবলিত কয়েকটি পাতা প্রকাশ্যে এসেছে। কাকলির দাবি, ওই ২০ জনের পরে আরও দু’জন সাংসদ ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। যখন যোগদান করবেন, তখনই তাঁদের নাম প্রকাশ করা হবে।

Advertisement

‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের একাংশের সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার কলকাতায় হওয়ার কথা ছিল তাঁদের বৈঠক। পরে তাঁদের তরফে জানানো হয়, বৈঠকটি হচ্ছে দিল্লিতে। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু রবিবার দিঘা শঙ্করপুর বোর্ডের একটি কর্মসূচি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে যোগ দেওয়ার কথা থাকায় তিনি দিল্লি যাচ্ছেন না বলে খবর।

কাকলি দাবি করেছেন, ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দিচ্ছেন আরও দু’জন সাংসদ। রবিবার সকালে দিল্লি যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে তিনি বলেন, ‘‘বৈঠক করতে দিল্লি যাচ্ছি। ২২ জন রয়েছেন আমাদের সঙ্গে।’’ তার পরে কাকলি আরও বলেন, ‘‘সোমবার দেখা করার সময় দিয়েছেন স্পিকার (ওম বিড়লা)। সোমবারই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে আলাদা ব্লক তৈরির দাবি জানানো হবে।’’ কোন দু’জন সাংসদ দিল্লি গিয়ে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, তা অবশ্য কাকলি স্পষ্ট করেননি। তিনি জানান, ওই সাংসদেরা যখন ‘বিদ্রোহী শিবিরে আনুষ্ঠানিক ভাবে’ যোগ দেবেন, তখন জানানো হবে। তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে গত চার-পাঁচ বছরে যা পরিস্থিতি হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে যাঁরা মত দিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছিল। (বিদ্রোহী শিবিরে) সংখ্যাটা ২২।’’ রবিবার সকালে দিল্লি পৌঁছেছেন সাংসদ মালা রায়, সায়নী ঘোষ। দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন জুন মালিয়া।

Advertisement

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের পর থেকেই ডামাডোল চলছে তৃণমূলে। বিধানসভার পরিষদীয় দল হাতছাড়া হয়েছে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। গত সোমবার লোকসভায় সংসদীয় দলেও ভাঙন প্রকট হয়। মমতার নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে যান দলের অধিকাংশ সাংসদ। গত সোমবার তৃণমূলে এই ‘সাংসদ-বিদ্রোহ’ যখন প্রকাশ্যে আসে, মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখন ছিলেন দিল্লিতেই।

ওই দিন বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি দাবি করেন, তাঁদের সঙ্গে প্রায় ২০ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। তাঁরা কেন্দ্রে বিজেপির শাসক-জোট এনডিএ-কে সমর্থন করতে চাইছেন। এরই মধ্যে শুক্রবার বেশ কিছু স্বাক্ষর-সহ একটি নথি প্রকাশ্যে আসে। তাতে ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের স্বাক্ষর ছিল। প্রথম সই ছিল কাকলির, দ্বিতীয় শতাব্দী রায়ের। তার পরে একে একে স্বাক্ষর ছিল বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, কালীপদ সোরেন, দেব, জুন, পার্থ ভৌমিক, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ, মালার। পৃথক ভাবে সই ছিল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষেরও। বিদ্রোহী সাংসদদের একটি সূত্রের দাবি, রচনা এবং সায়নী পরে স্বাক্ষর করেছেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, স্পিকারকে চিঠি দিয়ে ১৯ জন সাংসদ জানিয়েছেন যে, কাকলির নেতৃত্বে তাঁদের আলাদা ব্লক হিসাবে গণ্য করা হোক। এই চিঠি স্পিকার পেয়েছেন কি না, পেলেও কবে পেয়েছেন, এই বিষয়ে স্পিকারের সচিবালয়ের সূত্র মারফত এখনও কিছু জানা যায়নি। বিদ্রোহী সাংসদদের সূত্র মারফত আগেই জানা গিয়েছিল, তাঁরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাকলি এ বার দাবি করলেন, সোমবার স্পিকার তাঁদের দেখা করার সময় দিয়েছেন। সেখানে তাঁরা পৃথক ব্লক গঠনের দাবি জানাবেন।

‘বিদ্রোহী’-দের সেই শিবিরে সুদীপ যোগদান করছেন বলে স্পষ্ট হয়ে যায় শনিবার। ওই দিন দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দীর সঙ্গে এক গাড়িতে দেখা যায় কলকাতা উত্তরের সাংসদকে।

প্রকাশ্যে আসা কাগজে সুদীপ ছাড়া আর যে আট জন সাংসদের সই ছিল না, তাঁরা হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, শত্রুঘ্ন সিন্হা, প্রতিমা মণ্ডল, সাজদা আহমেদ। কাকলির দাবি ঠিক হলে ওই আট জনের থেকে আরও দু’জন যোগ দিতে পারেন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে। সেই দু’জন কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে শত্রুঘ্ন আবার বিজেপি-তে ফিরতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। যদিও তিনি সেই জল্পনা নস্যাৎ করে জানান, মমতার পাশেই রয়েছেন। এখন এটাই তাঁর ‘কর্তব্য’।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement