health

লকডাউনেও কাজ করেছেন আশা-গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা 

করোনা আবহে অনেকের জ্বর, সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ থাকলেও করোনা আতঙ্কে তাঁরা হাসপাতাল মুখো হচ্ছে না। তাঁদেরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুঝিয়ে সুঝিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর কাজটা করে থাকেন আশা কর্মীরাই। 

Advertisement

মফিদুল ইসলাম

শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২০ ০২:২১
Share:

মশানাশক তেল স্প্রে করছেন গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা। নিজস্ব চিত্র

করোনা আবহেও কামাই নেই তাঁদের। কেউ আশা কর্মী, কেউ আবার গ্রামীণ সম্পদ কর্মী। করোনা আবহে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, পরিযায়ী শ্রমিকেরা ঘরে ফিরলে তাঁদের কী করণীয়, সে বিষয়ে সচেতন করা, প্রসূতি ও শিশুদের সময় মতো টিকাকরণ করানো সবই করতে হয় আশা কর্মীদের। তা ছাড়া, করোনা আবহে অনেকের জ্বর, সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ থাকলেও করোনা আতঙ্কে তাঁরা হাসপাতাল মুখো হচ্ছে না। তাঁদেরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুঝিয়ে সুঝিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর কাজটা করে থাকেন আশা কর্মীরাই।
তা ছাড়া, করোনা আবহের মধ্যেও মশা বাহিত বা পতঙ্গ বাহিত রোগ প্রতিরোধে কাজ করছেন গ্রামীণ সম্পদ কর্মী বা ভিআরপিরা। বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মশার লার্ভা নাশক স্প্রে করার কাজ সবই করছেন গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা। বৃহস্পতিবার লকডাউনের দিনও আশা কর্মী, গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা মাঠে নেমে আর পাঁচটা দিনের মতোই কাজ করলেন পুরোদমে।
মতিয়া বিবি নামে হরিহরপাড়ার এক আশা কর্মী বলেন, ‘‘লকডাউনের দিনেও ৬০ বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে, সাধারণ মানুষকে সচেতন করে রিপোর্ট পাঠাতে হয়েছে অন্যান্য দিনের মতোই। তবে লকডাউন বলে এদিন প্রসূতি মা ও শিশু টিকাকরনের কাজটা বন্ধ ছিল।’’
নওদার গ্রামীণ সম্পদ কর্মী আনন্দ হালসানা বলেন, ‘‘অন্য দিনের মতোই আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি জমা জল নষ্ট করা, মশার লার্ভা নাশক স্প্রে করা সবই করেছি।’’
আশা কর্মী সংগঠনের নেত্রী কুরশিয়া খাতুন বলেন, ‘‘আমরা করোনা আবহের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। লকডাউনে সবাই ঘরে থাকলেও আমাদের বাইরে বেরিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।’’
করোনা আবহে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা ভাতা বেড়ে আশা কর্মীদের মাসিক ভাতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। এক আশা কর্মী বলেন, ‘‘এই ভাতাতেই ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। আমাদের না আছে লকডাউন না
আছে ছুটি।’’
একই দশা ভিআরপি বা গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের। সারা বাংলা গ্রামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠনের জেলা সম্পাদক মুহাম্মদ কামালুদ্দিন বলেন, ‘‘আমরা যা ভাতা পাই তাতে সংসার চলে না। অথচ কোনও রকম সুরক্ষা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের সংক্রমণ ঘটলে তার দায় কে নেবে?’’
লকডাউনের দিনে কাজ করতে হবে বলে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর থেকে নির্দেশিকা জারি হয়েছে বলেও জানান তিনি। ফলে বৃহস্পতিবার লকডাউনের দিনেও দিন ভর নিজেদের এলাকায় কাজ করলেন তাঁরা। নওদার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক মুকেশ কুমার সিংহ বলেন, ‘‘ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের বিরামহীন ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও মশার লার্ভা নাশক স্প্রে করার কাজ করছেন।’’ হরিহরপাড়ার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক আজিজুল লস্কর বলছেন, ‘‘আশা কর্মীরাও স্বাস্থ্যকর্মী। ফলে তাঁদেরও জরুরি পরিষেবা দিতে হচ্ছে। তবে সতর্কতা অবলম্বন করেই তাদের কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement