ক্লাস চলাকালীন বহিরাগতদের নিয়ে মিছিল করল তৃণমূল ছাত্রপরিষদ। আর তার জেরে কলেজে ক্লাস করতে পারল না ছাত্রছাত্রীরা, বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ তুলল বেলডাঙা এসআরএফ কলেজের ছাত্র পরিষদ। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে এই নিয়ে অভিযোগও জানায় তারা। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে টিএমসিপি।
বেলডাঙা এসআরএফ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজাতা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কলেজ চলাকালীন একটি ছাত্রসংগঠন মিছিল করে এ দিন। অপর একটি দলের ছাত্র সংগঠন এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। আমি জানিয়েছি, বিষয়টি আগামী পরিচালন সমিতির বৈঠকে তোলা হবে।’’
কলেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৮ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের কলেজগুলিতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন। তবে তা এখনও ঘোষণা না হলেও জেলার প্রতিটি ছাত্র সংগঠনই কলেজগুলিতে ক্ষমতা দখল করতে নিজেদের কর্মসূচি নিয়ে তৎপর। সেই কর্মসূচিরই অঙ্গ হিসেবে এ দিন কলেজ শুরু হওয়ার পর মিছিল করে বেলডাঙা কলেজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ইউনিট। এই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন নদিয়ার কালীগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান। এ ছাড়া স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। ছাত্রপরিষদের অভিযোগ, বহিরাগত ও কলেজ ছাত্র নিয়ে অন্তত ৩০০ জনের এই মিছিল দেখে ছাত্ররা ক্লাস না করে ভয়ে বাড়ি চলে যায়। ছাত্রপরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক হজরত আলি বলেন, ‘‘আমাদের ছাত্রপরিষদের কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি, কালীগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে কলেজে ক্লাস চলাকালীন বড় মিছিল করেছে তৃণমূল। এতে প্রথম ও তৃতীয় বর্ষের ক্লাস চলাকালীন ছাত্ররা আতঙ্কিত হয়ে পরে। তারা তড়িঘড়ি বাড়ি চলে যায়। এ নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছি।’’ কালীগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান জবাবে বলেন, ‘‘ছাত্রপরিষদ প্রতি দিন বহিরাগতদের কলেজে ঢুকিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমাদের দলের মিছিলে মোটেই পড়াশুনোর কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। আমি ছিলাম কলেজের বাইরে। কলেজে ঢুকিনি।’’ তৃণমূলের দাবি, ছাত্রদের নানা সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে ওই মিছিলে। ফলে কোনও ক্ষতি হয়নি।