প্রথম দিনেই শুরু ‘খবরদারি’

পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই প্রার্থী ও জোট-জল্পনা শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে সোমবার সকাল থেকে আসতে শুরু করেছে, মনোনয়নপত্র দাখিল করা নিয়ে মনোমালিন্য এবং বিরোধীদের উপরে শাসকদলের ‘শাসন’ করার বিক্ষিপ্ত খবর।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০১৮ ০০:৩২
Share:

মিলিয়ে নেওয়া। বুথে-বুথে যাবে ভোটারদের তালিকা। তার আগে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন কর্মীরা। সোমবার বহরমপুরে। ছবি: গৌতম প্রামাণিক

পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই প্রার্থী ও জোট-জল্পনা শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে সোমবার সকাল থেকে আসতে শুরু করেছে, মনোনয়নপত্র দাখিল করা নিয়ে মনোমালিন্য এবং বিরোধীদের উপরে শাসকদলের ‘শাসন’ করার বিক্ষিপ্ত খবর। পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শুরুর সকালেই, সোমবার মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ ১ ব্লকে কংগ্রেস প্রার্থীদের মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন ব্লকের রানিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কংগ্রেসের দুই প্রাক্তন প্রধান কাশেম বিশ্বাস ও অসিত দাস, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আজিজা খাতুন, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য আনোয়ার হোসেনকেও বাঁশ দিয়ে পেটানো হয় বলে অভিযোগ। ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি হাসানুজ্জামান বাপ্পার অভিযোগ, ‘‘দুপুরে আমাদের পাঁচ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলেন। আচমকা এক দল তৃণমূল সমর্থক তাঁদের ঘিরে ধরে পেটাতে থাকে। তবে, তৃণমূলের জঙ্গিপুর মহকুমা সভাপতি বিকাশ নন্দ বলছেন, ‘‘বিরোধীরা ভোটে হার নিশ্চিত জেনে পুলিশের কাছে এখন মিথ্যে অভিযোগ করছেন।’’ অভিযোগ উঠেছে সালারের দুই বিজেপি প্রার্থীকেও মারধরের। এ ক্ষেত্রেও অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের দিকে।

Advertisement

বিজেপির জেলা সভাপতি গৌরিশঙ্কর ঘোষ বলেন, “মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রথম দিন থেকেই জেলা জুড়ে শাসকদলের নেতা-কর্মীরা তাদের গুন্ডামি শুরু করে দিয়েছেন। ভয় দেখিয়ে কি মানুষকে ঠেকানো যায়!’’

‘খবরদারির’ খুচরো খবরের সঙ্গেই শুরু হয়েছে জল্পনা, বিরোধীরা জোট করছেন কি? বাম-কংগ্রেস জোট নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘জোট নিয়ে আমরা উপর থেকে কোনও কিছু চাপিয়ে দিতে চাইছি না। বাস্তব মেনে প্রার্থী মনোনীত করতে হবে। এখন নিচু তলার কর্মীরা বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে যদি জোট করে প্রার্থী মনোনীত করেন, তাহলে জোট হবে।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য তাঁদের সাংগঠনিক দুর্বলতা আড়াল করছেন না, বলছেন, ‘‘বামপন্থীরা যেখানে প্রার্থী দিতে পারবে, সেখানে প্রার্থী দেওয়া হবে। যেখানে পারা যাবে না সেখানে প্রগতিশীল মানুষের জোটের প্রার্থীকে সমর্থন করব।’’ যা শুনে তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি সুব্রত সাহা বলেন, ‘‘কংগ্রেস এবং সিপিএম দুটি অপ্রাসঙ্গিক দল। তারা হাত ধরাধরি করে জোট করে ভোটে লড়লে ফল যা হওয়ার তাই হবে।’’

Advertisement

সুব্রত অবশ্য জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত ভোটের প্রার্থী বাছাইয়ে ছাত্র-যুবাদের সঙ্গে এ বার, মহিলাদেরও প্রাধান্য দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘‘প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন