তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের ‘মাতৃ মা’র সামনে এ ভাবেই ত্রিপলের তাঁবু তৈরি করে রাত্রিযাপন রোগীর পরিজনদের। ছবি: গৌতম প্রামাণিক
জেলার নানা প্রান্ত থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসার জন্য আসেন অনেকে। জেলার বাইরে থেকেও অনেকে আসেন চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এই তীব্র শীতের রাতে তাঁদের ঠাঁই হয় কোথায়?
হরিহরপাড়ার বাসিন্দা তুজাম শেখ মেয়েকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের মাতৃ মা'য়ে ভর্তি করেছেন। মাতৃ মা'য়ের সামনে রাস্তার পাশে ত্রিপল, চাদর ও দড়ি দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করেই রাত্রি বাস করছেন তুজাম। তুজাম একা নন, তাঁর মতো অনেকেরই একই অবস্থা।
হাসপাতাল চত্বরে রয়েছে ‘রোগী পরিজনের রাত্রি নিবাস’-এর ব্যবস্থা। রয়েছে টিনের আচ্ছাদনও। কিন্তু সেখানে টাকা দিয়ে থাকতে হয় বলে অনেককেই দেখা যায় ত্রিপলের অস্থায়ী ছাউনির নীচে। তা ছাড়া, সেখানে এত ভিড় থাকে যে সকলের জায়গা হয় না। তাই ডোমকল, বড়ঞা-সহ জেলার নানা প্রান্ত থেকে এসে ত্রিপল, চাদর ও দড়ি দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে থাকছেন রোগীর পরিজনেরা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তাঁরা এই অস্থায়ী ঘর তৈরি করছেন। সকাল হলেই আবার তা খুলে নিচ্ছেন বলে জানান। কেউ সেখানে রয়েছেন এক সপ্তাহ তো কেউ তারও বেশি। তবে তাঁরা ব্যবহার করছেন হাসপাতালেরই শৌচাগার।
তুজাম শেখ বলেন, ‘‘আমার মেয়ে ভর্তি রয়েছে মাতৃ মা'য়ে। আমি আর আমার জামাই মাতৃ মা'য়ের বাইরে, ত্রিপল, চাদর, দড়ি দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে থাকছি। রোগীর পরিজনদের জন্য থাকার যে ব্যবস্থা হাসপাতালে রয়েছে সেখানে টাকা দিয়ে থাকতে হয়। তাই আমরা সেখানে থাকি না।’’
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি অনাদি রায় চৌধুরী বলেন, ‘‘যাঁরা ওখানে থাকছেন, তাঁদের আমরা বহু বার বলেছি, তাঁরা যেন আচ্ছাদনের নীচে এসে থাকেন। তবুও তাঁরা সেখানেই থাকছেন।’’
তুজাম বলেন, ‘‘সন্ধ্যার পরে আমরা এই থাকার জায়গা তৈরি করি। সকাল হলেই আবার খুলে নিই। হাসপাতালের বাইরের হোটেলে আমরা খাবার খাই।’’
বড়ঞা থেকে রোগী নিয়ে এসেছেন বিশ্বজিৎ দাস। তাঁর বাড়ির লোকও ভর্তি হাসপাতালে। তিনিও বলেন, ‘‘আমার এক আত্মীয় সাত দিন ধরে ভর্তি মাতৃ মা'য়ে। তাই আমরা বাইরে ত্রিপল, কম্বল ও দড়ি কিনে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে থাকছি। শীত লাগলেও উপায় নেই। আমরা এ ভাবেই রয়েছি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে